...|...|...

রাজনীতি

দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের অঙ্গীকার তারেক রহমানের

দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের অঙ্গীকার তারেক রহমানের

Times Today
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, রাত ৩:৪৭ | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ১২:৪৪
Shares
দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের অঙ্গীকার তারেক রহমানের

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণ দায়িত্ব দিলে বিএনপি আবারও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করবে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি কীভাবে বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দিচ্ছে তা বুঝতে দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।  মেধার ভিত্তিতে চাকরি খুঁজতে বের হওয়া একজন গ্র্যাজুয়েট, সাধারণ সরকারি সেবা পেতে মাসের পর মাস হিমশিম খাওয়া কৃষক, হাসপাতালে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়া কোনো পরিবারের অভিজ্ঞতা কিংবা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ঘুষ দিতে বাধ্য উদ্যোক্তাদের বাস্তবতা সবই দুর্নীতির প্রতিদিনের চিত্র।

তারেক রহমান আরো বলেন, খাবারের দাম কেন বাড়ে, স্কুলে ভালো পড়াশোনা কেন মেলে না, রাস্তায় কেন নিরাপত্তা নেই এ ধরনের নানা সমস্যার পেছনে মূল কারণ দুর্নীতি।  তার মতে, এটি লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দমবন্ধ করে ফেলেছে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই বাংলাদেশে নতুন কোনো বিষয় নয় এটি বহুদিনের আলোচনার অংশ।  আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস সেই লড়াইয়ের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে বাস্তব অগ্রগতির একটি সময় এসেছে বিএনপির শাসনামলে।  তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানো, পরিচ্ছন্ন সরকারি সেবা নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতিকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন যার ফলে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার কমেছিল। 

পরে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় সরকারি প্রতিষ্ঠানে আধুনিকায়ন, নতুন ক্রয় নীতিমালা, কঠোর আর্থিক আইন, শক্তিশালী অডিট ব্যবস্থা ও নজরদারির উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।  তাঁর দাবি, ২০০৪ সালে দুদক গঠন ছিল বড় পদক্ষেপ যাকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হিসেবে দেখেছিল, এবং কিছু জরিপে ওই সময় দুর্নীতি কমার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

আগামী দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আদালত, দুদক, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান যেন রাজনৈতিক চাপমুক্ত থাকে সে জন্য প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।  একই সঙ্গে উন্মুক্ত দরপত্র ব্যবস্থা, সম্পদ বিবরণী, রিয়েল-টাইম অডিট ও তথ্য অধিকার আইন শক্তিশালী করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। 

পাশাপাশি বিচার ও আইনশৃঙ্খলা সংস্কার, ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে লাইসেন্স-জমি-পেমেন্টসহ সেবা অনলাইনে এনে ঘুষের সুযোগ কমানো, অনিয়ম প্রকাশকারীদের (হুইসলব্লোয়ার) সুরক্ষা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতার চর্চা জোরদারের বিষয়ও উল্লেখ করেন তিনি।

সবশেষে তারেক রহমান বলেন, বহু বছরের অব্যবস্থাপনার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন হবে তবে ইতিহাস প্রমাণ করে সৎ নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও জনগণের সমর্থন একসঙ্গে এলে পরিবর্তন সম্ভব।  জনগণ দায়িত্ব দিলে বিএনপি আবারও দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।