শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সভায় এসব তথ্য জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বিপিএম। সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি।
আইজিপি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইজিপি।
সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব কিংবা ছবি প্রকাশের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসাথে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় জনগণের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ এবং পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পূজাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পূজার আগে, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রাখতে পুলিশ কাজ করবে। এ জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে। পাশাপাশি ক্রাইম সিন ভ্যানসহ প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত ইউনিটগুলোও প্রস্তুত রাখা হবে।
সভায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, পূজা উদযাপন পরিষদ এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন।
সভায় উপস্থিত ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা পূজার নিরাপত্তায় নেওয়া উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।


