...|...|...

সারাদেশ

এইচএসসির ফল প্রকাশ

দুই বছরে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার কমেছে ২৫.৯৫ শতাংশ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৫৮
Shares
দুই বছরে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার কমেছে ২৫.৯৫ শতাংশ

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে গত দুই বছরে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পাসের হার কমেছে ১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ পয়েন্ট, যা শতকরা হিসাবে ২৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ। একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭ হাজার ৩৪০ জন বা ৭১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সর্বশেষ পরীক্ষায় বোর্ডটিতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। গত ১৫ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে বোর্ডটিতে পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশে। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছিল ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ পয়েন্ট বা ২৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। এবার ২০২৬ সালে আরও কমে হয়েছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ পয়েন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে দুই বছরে পাসের হার কমেছে ১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ পয়েন্ট।

জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধস নেমেছে। ২০২৪ সালে ১০ হাজার ২৬৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৯৭ জনে। এক বছরে কমেছিল ৪ হাজার ১৭২ জন বা ৪০ দশমিক ৬২ শতাংশ। আর এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯২৯ জন। গত বছরের তুলনায় এবার কমেছে ৩ হাজার ১৬৮ জন বা ৫১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭ হাজার ৩৪০ জন বা ৭১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

ফলাফল ঘোষণার সময় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছে এবং অভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই মূল্যায়ন যথাযথ হয়েছে। এ কারণে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ছিল। শুরুর দিকের কয়েকটি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করতে পারে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা কিছুদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরতে সময় লেগেছে। এটিও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীতে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ। নগরীর বাইরে জেলাগুলোতে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে খাগড়াছড়িতে পাসের হার সবচেয়ে কম, ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। রাঙামাটিতে ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ। কক্সবাজার পাসের হার ৪৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

চট্টগ্রাম,কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার ২৮৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেন।