প্রতিদিনের ব্যস্ততায় গান শোনা, কল রিসিভ করা কিংবা কাজের ফাঁকে বিনোদনের জন্য অনেকেই দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড বা হেডফোন ব্যবহার করেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ ভলিউমে ইয়ারবাড ব্যবহার করলে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন তারা।
কেন এত ঝুঁকিপূর্ণ
ইয়ারবাড কানের পর্দার একদম কাছাকাছি বসানো থাকে বলে উচ্চ শব্দ সরাসরি অন্তঃকর্ণে পৌঁছে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে এমন উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে থাকলে অন্তঃকর্ণের ক্ষুদ্র হেয়ার সেলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, একবার এসব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সাধারণত আর পুনরুজ্জীবিত হয় না- ফলে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
এছাড়া কানের সাথে ঠিকমতো না বসা ইয়ারবাডও একটি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমন ইয়ারবাডে বাইরের শব্দ কম শোনা যায় বলে অনেকে ভলিউম আরও বাড়িয়ে দেন, যার ফলে কানে শব্দের চাপ বেড়ে যায়। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহারের কারণে কানে খৈল জমে কান বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতিও হতে পারে।
২০২২ সালে মেডিকেল জার্নাল Cureus- এ প্রকাশিত একটি সাহিত্য পর্যালোচনায় ইয়ারফোন ও হেডফোন ব্যবহারের সাথে শব্দজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাসের সম্পর্ক নিয়ে ২৩টি গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়। এই পর্যালোচনায় দীর্ঘ সময় ও উচ্চ ভলিউমে ব্যক্তিগত মিউজিক প্লেয়ার ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালে Journal of Audiology & Otology- এ প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা একটানা এক ঘণ্টার বেশি ইয়ারফোন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে ইয়ারফোন- সম্পর্কিত কানের সংক্রমণের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।
কতক্ষণ ব্যবহার নিরাপদ
ইয়ারবাড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়- এটি নির্ভর করে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে শ্রবণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রচলিত একটি নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দেন, যা ‘৬০/৬০ নিয়ম’ নামে পরিচিত। এই নিয়ম অনুযায়ী-
- ভলিউম সর্বোচ্চ মাত্রার প্রায় ৬০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
- একটানা প্রায় ৬০ মিনিটের বেশি না শোনাই ভালো।
- মাঝেমধ্যে নিয়মিত বিরতি নেওয়া জরুরি।
তবে কি ইয়ারবাড বন্ধ করে দিতে হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়ারবাড ব্যবহার একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস মেনে চললেই কানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব-কম সময় একটানা ব্যবহার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত বিরতি নেওয়া। এই সাধারণ সতর্কতাগুলোই দীর্ঘমেয়াদে শ্রবণশক্তি সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


