...|...|...

বিশ্ব

সোমালিয়ায় জিম্মি কার্গো জাহাজ তুরস্কের সহযোগিতায় উদ্ধার, নিহত ১৪ জলদস্যু

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:৪৯ | আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৩
Shares
সোমালিয়ায় জিম্মি কার্গো জাহাজ তুরস্কের সহযোগিতায় উদ্ধার, নিহত ১৪ জলদস্যু

ছবি: সংগৃহীত

সোমালিয়ার আধা-স্বায়ত্তশাসিত পুন্টল্যান্ড রাজ্যের উপকূলের কাছে জলদস্যুদের কবলে পড়া একটি পণ্যবাহী জাহাজ সফলভাবে মুক্ত করেছে তুরস্ক ও সোমালিয়ার যৌথ বাহিনী। সোমালি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ১০ দিন ধরে চলা এই উদ্ধার অভিযানে ১৪ জন জলদস্যু নিহত হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) আল জাজিরার বরাতে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্যামেরুন পতাকাবাহী ‘এমভি লাতুফ’ নামের জাহাজটিকে মুক্ত করার এই অভিযানে জলদস্যুদের চারটি নৌকাও ধ্বংস করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যৌথ বাহিনীর টানা ও তীব্র চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত বাকি জলদস্যুরা জাহাজটি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়, যার ফলে নিরাপত্তা বাহিনী সহজেই জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে সক্ষম হয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, সোমালিয়া ও তুরস্কের মধ্যকার স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়, যার মূল লক্ষ্য হলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা, সোমালিয়ার উপকূল রক্ষা করা এবং জলদস্যুতা দমন করা।

তবে এই অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না কিংবা জাহাজের ক্রুরা কেমন আছেন, সে বিষয়ে সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি।

পুন্টল্যান্ডের নুভাল অঞ্চলের গোদোব জিরায়ান জেলার জিইফ্লে কমিউনিটির এক স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল্লাহি ওয়ারসামে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বার্তা সংস্থাকে নিশ্চিত করেছেন যে, জাহাজটি এবং এর ক্রুরা মুক্ত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, এমভি লাতুফ জাহাজটি গত জুলাইয়ের শেষ দিকে তুরস্কের তেকির্দাগ বন্দর ছেড়ে গিয়েছিল। এরপর গত ১৭ আগস্ট উত্তর-পূর্ব সোমালিয়ার আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঙ্গরাজ্য পুন্টল্যান্ডের নুভাল অঞ্চলের উপকূলবর্তী জলসীমায় এটিকে ছিনতাই করা হয়েছিল।

মেরিন ট্রাফিক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যবাহী এই জাহাজটি বর্তমানে তানজানিয়ার দারুস সালামে এর নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

উল্লেখ্য, ২০০০-এর দশকে সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুতা চরম আকার ধারণ করেছিল এবং ২০১১ সালে তা শিখরে পৌঁছায়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর উপস্থিতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে এ ধরনের হামলা আবার বাড়তে শুরু করেছে। এ বছর সোমালিয়া উপকূলে অন্তত ১৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ২০১৩ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে অন্তত পাঁচটি কার্গো জাহাজকে জিম্মি করা হয়েছিল, যার সর্বশেষটি গত ২০ আগস্ট ইয়েমেন উপকূলের কাছে হাইজ্যাক করা হয়েছিল।