প্রযুক্তিগত স্বাবলম্বিতা অর্জন ও কৌশলগত খাতে উদ্ভাবন বাড়িয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বৈশ্বিক কেন্দ্র বা হাব হতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে তুরস্ক। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিস্তৃত একটি কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে দেশটি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান ‘২০২৬-২০৩০ তুরস্ক এআই অ্যাকশন প্ল্যান’ সংক্রান্ত এক সার্কুলারে স্বাক্ষর করেন। পরে এটি দেশটির অফিসিয়াল গ্যাজেটে প্রকাশিত হয়।
শিল্প ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রস্তুত এই রোডম্যাপের মূল উদ্দেশ্য দেশীয় প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা ও টেকসই ডিজিটাল রূপান্তর ঘটানো। পুরো পরিকল্পনাটিকে মূলত চারটি ধাপে সাজানো হয়েছে—সচেতনতা তৈরি, ব্যবহার, উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনা।
কর্মপরিকল্পনার আওতায় আগামী দুই বছরের মধ্যে তুরস্কের ৮১টি প্রদেশের প্রায় ৫০ লাখ নাগরিককে এআইবিষয়ক মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১০ হাজার উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ ও ১ লাখ অ্যাপ্লিকেশন প্রফেশনাল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের ডেটা সুরক্ষায় আইনি ও নৈতিক কাঠামো তৈরির পাশাপাশি সরকারি অন্তত ২ হাজার ডেটাসেট উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি সব সংস্থাকে তাদের বার্ষিক বিনিয়োগ বাজেটের অন্তত ২ শতাংশ এআই প্রকল্পে ব্যয় করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারের মোট কম্পিউটিং ক্ষমতা বাড়িয়ে ১ গিগাওয়াটে উন্নীত করতে চায় তুরস্ক। গবেষক ও স্টার্টআপগুলোর জন্য ২০ মিলিয়ন জিপিইউ-আওয়ার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তুর্কি ভাষার নিজস্ব ‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ এবং রোবোটিক্স প্রযুক্তি তৈরি ও রপ্তানিতে বিশেষ জোর দিচ্ছে দেশটি।
তুরস্কের লক্ষ্য এই খাতে অন্তত ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে শুরু হচ্ছে পাইলট প্রকল্প। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ অবকাঠামো থাকা ক্যাম্পাসগুলোতে তৈরি করা হবে এআই গ্রোথ জোন।
তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মেহমেত ফাতিহ কাজির জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন কেবল প্রযুক্তি নয়, বরং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সীমান্ত সার্বভৌমত্বের নতুন নিয়ামক। বিশ্বব্যাপী এই রূপান্তরে দর্শক না থেকে তুরস্ক নেতৃত্বের আসনে বসতে চায় বলে স্পষ্ট জানান তিনি।


