তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ছেলের ওপর নজরদারি চালানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে এফবিআই। ওয়ানইং ‘হেদার’ ঝাং নামের ৩৪ বছর বয়সী ওই নারীকে রোববার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়, যখন তিনি চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইনের বাসিন্দা ঝাংয়ের বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস অ্যাটর্নি বিল এসাইলি জানিয়েছেন, ঝাং চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশে কাজ করছিলেন এবং ধরা পড়া এড়াতে গোয়েন্দা কৌশলও ব্যবহার করেছিলেন।
এফবিআইয়ের অভিযোগ, ২০২৫ সালে ঝাং ও তাঁর এক সহযোগী সিয়াটলে গিয়ে তাইওয়ানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের ওপর নজরদারি চালান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ওই লক্ষ্যবস্তু ছিলেন প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ছেলে লাই টিং-ইউ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ঝাং ওই পরিবারের বাড়ি ও গাড়ির ছবি এবং ভিডিও ধারণ করেন। গাড়ির লাইসেন্স প্লেটের তথ্যও সংগ্রহ করে তা চীনা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঝাংয়ের সঙ্গে অন্তত দুই ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল, যাদের তিনি চীনা সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে জানতেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে চীন সফরের সময় তিনি তাঁদের একজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরে নজরদারি-সংক্রান্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এসাইলির ভাষ্য, বিদেশি সরকারের পক্ষে কাজ করার বিষয়টি ঝাং কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলকে জানাননি, যা ফেডারেল আইনে অপরাধ। তাঁকে সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের দপ্তর ঘটনাটিকে ‘সীমান্তপারের দমন-পীড়নের’ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করে যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিং ও তাইপের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই এই গ্রেফতারের ঘটনা সামনে এলো। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে, আর তাইওয়ানের বর্তমান নেতৃত্ব দ্বীপটির পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় ও জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর জোর দিয়ে আসছে।


