...|...|...

আইন ও আদালত

ওসমান হাদি হত্যা মামলা

তদন্ত প্রতিবেদন জমার শুনানি আজ

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:১০
Shares
তদন্ত প্রতিবেদন জমার শুনানি আজ

ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার শুনানি আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর)। গত ২৭ সেপ্টেম্বরের পর ৩৭ দিন পেরিয়ে আবারও আদালতে উঠছে আলোচিত মামলাটি। তবে নির্ধারিত দিনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে অপেক্ষা। মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা সেদিন প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত ৩ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে গত ২০ আগস্টও প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তদন্ত শেষ না হওয়ায় সেদিনও সময় বাড়ানো হয়।

আদালত সূত্র ও মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় এ নিয়ে প্রায় ২০ বার পেছানো হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত প্রথমে করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ৬ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি করা হয়। সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ আরও কয়েকজনের নামও অভিযোগপত্রে ছিল।

তবে ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট হননি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের তৎকালীন সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। গত ১৫ জানুয়ারি তিনি অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

ডিবির অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির বিষয়টিও হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বাদীর নারাজির পর আদালতের নির্দেশে সিআইডি নতুন করে তদন্ত শুরু করে। এখন অধিকতর তদন্তে হত্যার পরিকল্পনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং আগের তদন্তে উঠে না আসা তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সিআইডির তদন্ত চলাকালে মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ফয়সাল রুবেল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে দুই দফায় মোট ১২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনি প্রচারণা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তার অটোরিকশা পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

বিচারের দাবিতে মাঠে ইনকিলাব মঞ্চ

মামলার তদন্তের পাশাপাশি শরিফ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। হাদি হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজপথ ছাড়ছি না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ।’ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।