...|...|...

সারাদেশ

ডিসির নির্দেশে বদলে গেল সাতক্ষীরার আলোচিত দেশলাই কাঠির প্রতিমা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:২২ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:২১
Shares
ডিসির নির্দেশে  বদলে গেল সাতক্ষীরার আলোচিত দেশলাই কাঠির প্রতিমা

ছবি: প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুরে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি দিয়ে তৈরি আলোচিত দুর্গাপ্রতিমার সাজসজ্জা রাতারাতি বদলে গেছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে প্রতিমা থেকে দেশলাই কাঠি অপসারণ করে নতুনভাবে সাজানোর কাজ শুরু করেছেন আয়োজকেরা। পূজার ঠিক আগমুহূর্তে এমন পরিবর্তনে হতাশ হয়ে পড়েছেন মন্দির কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একাংশ। অন্যদিকে, রাতভর পরিশ্রম করে দেশলাই কাঠির পরিবর্তে কিসমিস ও তিল দিয়ে প্রতিমার সাজসজ্জা করছেন শিল্পীরা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ব্রহ্মরাজপুর সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে দেশলাই কাঠি অপসারণের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কথা জানিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার মধ্যে কাঠিগুলো সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

প্রশাসনের নির্দেশনার পর বুধবার রাতেই প্রতিমা থেকে দেশলাই কাঠি অপসারণের কাজ শুরু করেন আয়োজকেরা। রাতভর প্রতিমাশিল্পীরা সাজসজ্জা পরিবর্তনের কাজ করেন। দেশলাই কাঠি সরিয়ে কিসমিস ও তিল দিয়ে প্রতিমার পোশাক ও অলংকার নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা চলছে। পূজার প্রস্তুতির শেষ সময়ে এমন পরিবর্তন সামাল দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও কমিটির সদস্যরা।

আয়োজক কমিটির সদস্যদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও অর্থ ব্যয়ে তৈরি হয়েছিল ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা। দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা দিয়ে তৈরি প্রতিমাটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদের মধ্যেও এটি দেখার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পূজার একেবারে শেষ সময়ে সাজসজ্জা পরিবর্তনের নির্দেশ আসায় তাদের সেই আয়োজন ও প্রত্যাশায় ধাক্কা লেগেছে।

আয়োজকদের দাবি, সম্ভাব্য অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলায় আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশলাই কাঠির বারুদ অপসারণের পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রতিমাটি পরিদর্শন করেছিলেন। মণ্ডপে বালু ও পানি রাখা হয়েছিল এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দায়দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকারও দেওয়া হয়েছিল। এসব ব্যবস্থা নেওয়ার পরও দেশলাই কাঠি অপসারণের নির্দেশ আসায় হতাশ হয়েছেন তারা।

জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে। সরকারি নির্দেশনা নাগরিক হিসেবে সবার পালন করা দায়িত্ব। দেশলাই কাঠি অপসারণ করে প্রতিমাটি নতুনভাবে সাজানোর জন্য শিল্পীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ‘সাতক্ষীরায় দেড় লাখ দেশলাই কাঠিতে দুর্গাপ্রতিমা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্রহ্মরাজপুরের এই প্রতিমাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। প্রতিমার পোশাক ও অলংকার তৈরিতে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি এবং ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার ভারতের একটি মন্দিরে এ ধরনের শিল্পকর্ম দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেন বলে আগে জানিয়েছিলেন।

পূজার আর মাত্র এক দিন বাকি থাকতে প্রতিমার সাজসজ্জা বদলে যাওয়ায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একাংশের মধ্যেও মন খারাপের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। তাদের কাছে প্রতিমাটি ছিল এবারের দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ। তবে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশলাই কাঠি সরিয়ে নতুনভাবে প্রতিমা সাজিয়ে পূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কাজ করছেন আয়োজকেরা।

সব মিলিয়ে ব্রহ্মরাজপুরের আলোচিত প্রতিমাকে ঘিরে উৎসবের আমেজের মধ্যেই যুক্ত হয়েছে হতাশা ও ব্যস্ততা। রাতভর শিল্পীদের পরিশ্রমে প্রতিমা নতুন রূপ পেলেও দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় তৈরি আগের সাজসজ্জা হারিয়ে যাওয়ায় আক্ষেপ রয়ে গেছে আয়োজক ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একাংশের মধ্যে।