...|...|...

বিশ্ব

ট্রাম্পের পোস্ট দ্রুত পেতে ব্লুমবার্গসহ তিন প্রতিষ্ঠানের চুক্তি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:২৬
Shares
ট্রাম্পের পোস্ট দ্রুত পেতে ব্লুমবার্গসহ তিন প্রতিষ্ঠানের চুক্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ প্রকাশিত যেকোনো বার্তা বা পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের চেয়ে দ্রুতগতিতে পেতে অর্থ প্রদানে সম্মত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সংবাদ ও আর্থিক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গ। ব্লুমবার্গের পাশাপাশি ওয়াল স্ট্রিটের আরও দুটি অ্যালগরিদমিক ট্রেডিং জায়ান্ট এই চুক্তির আওতায় রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত বিভিন্ন সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ব্লুমবার্গের পাশাপাশি চুক্তি স্বাক্ষরকারী অপর দুটি প্রতিষ্ঠান হলো ওয়াল স্ট্রিটের সুপরিচিত স্বয়ংক্রিয় ও অ্যালগরিদমিক লেনদেনকারী কোম্পানি— ‘সাসকেহানা ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ’ এবং ‘জাম্প ট্রেডিং’।

যে সুবিধা মিলবে এই সেবায় ‘ট্রুথ এপিআই’ নামের এই বিশেষ সেবার মাধ্যমে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানগুলো ট্রাম্পের যেকোনো পোস্ট সাধারণ সাধারণ ইউজারদের তুলনায় প্রায় ৫০ মিলিসেকেন্ড আগে দেখতে পাবে। ট্রাম্পের একটি মাত্র টুইট বা পোস্ট অনেক সময় বিশ্ববাজার, শেয়ারবাজার কিংবা তেলের দামের মতো সংবেদনশীল আর্থিক সম্পদে আকস্মিক বড় ধরনের ওঠানামা তৈরি করতে পারে। ফলে মাত্র কয়েক মিলিসেকেন্ডের এই ব্যবধান বা সুবিধা বড় বিনিয়োগকারী ও হাই-স্পিড ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে।

গত জুলাই মাসে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ এই প্রিমিয়াম ডেটা ফিড সেবা চালুর ঘোষণা দেয় এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ট্রেডিং ফার্মের কাছে তা বিক্রির প্রস্তাব তোলে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সেবা পেতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়। তবে সুনির্দিষ্ট চুক্তিগুলোর আর্থিক অংক নিয়ে কোনো পক্ষই মুখ খুলেনি।

এদিকে ব্লুমবার্গ, জাম্প ট্রেডিং এবং সাসকেহানা—তিনটি প্রতিষ্ঠানই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প মিডিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বিভিন্ন শিল্পখাতে তাদের এপিআই সেবার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তবে রয়টার্সের এই প্রতিবেদনটি বেনামি সূত্রের দেওয়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

নৈতিকতা ও আইনি প্রশ্ন

ট্রাম্পের পারিবারিক ট্রাস্টের হাতে বর্তমানে ট্রাম্প মিডিয়ার ৪১ শতাংশ মালিকানা রয়েছে এবং ট্রাম্প নিজে ওই ট্রাস্টের একমাত্র সুবিধাভোগী। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গেল জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বা তার পরিবারের সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে তাদের নিজস্ব বিনিয়োগের কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। প্রেসিডেন্টের পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

এর আগে গত আগস্ট মাসে ‘দ্য ইন্টারসেপ্ট’ ও ‘ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন’ যৌথভাবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। তাদের যুক্তি ছিল, সরকারি নীতি বা ঘোষণা যদি শুধু ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করা হয় এবং একই তথ্যের দ্রুততম সংস্করণ অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হয়, তবে সাধারণ জনগণ সমানভাবে সরকারি তথ্য পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। বর্তমানে ওই মামলাটির আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পাশাপাশি ডেমোক্রেট দলের প্রভাবশালী সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও অ্যাডাম শিফ গত জুলাইয়ে এই প্রিমিয়াম সেবাটি মার্কিন সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন। যদিও এসইসি এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

ট্রাম্প মিডিয়া এর আগে গত আগস্টে তাদের বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছিল যে, তাদের এই দ্রুতগতির ডেটা সেবার জন্য ১০টিরও বেশি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। যদিও রয়টার্স স্বাধীনভাবে সেই সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, তাদের বেশির ভাগ গ্রাহকই ওয়াল স্ট্রিটের ট্রেডিং ফার্ম, যারা সেবা বাবদ মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করছে।