...|...|...

ঢাকা

টাকার অঙ্কে অতীতের সব রেকর্ড  ভাঙল পাগলা মসজিদ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, রাত ২:৩৩ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:১২
Shares
টাকার অঙ্কে অতীতের সব রেকর্ড  ভাঙল পাগলা মসজিদ

পাগলা মসজিদে টাকা গণনা। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ছয় মাস পর খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের লোহার দানবাক্সগুলো।  সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সাড়ে ১৩ ঘণ্টার গণনা শেষে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মিলেছে বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিপুল স্বর্ণালংকার। 

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলার পর সেখান থেকে মোট ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। 

সাধারণত প্রতি তিন মাস পর পর মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার বিশেষ কারণে তা ছয় মাস পর খোলা হয়েছে। সময়ের ব্যবধান ও অনুদানের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কথা বিবেচনা করে এবার নতুন করে আরও দুটি দানবাক্স যুক্ত করা হয়েছিল। গতবারের তুলনায় এবার একটু বেশি সময় পর সিন্দুক খোলা হয়েছে। টাকার অঙ্কও অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে।

টাকা গণনার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশ নিচ্ছেন প্রায় চার শতাধিক মানুষ। এদের মধ্যে রয়েছেন মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, মসজিদ কমপ্লেক্সের মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া এমদাদিয়া মাদরাসার ছাত্র এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে এই গণনা কার্যক্রম।

এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর, অর্থাৎ ৩ মাস ২৭ দিন পর মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। তখন সেখান থেকে নগদ ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। নগদ অর্থের পাশাপাশি দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার জমা পড়েছিল। এবার দীর্ঘ ছয় মাস পর বাক্সগুলো খোলায় দানের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কড়া নজরদারি ও উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসনাত খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।