...|...|...

সারাদেশ

জুড়ী-বড়লেখা সীমান্তে ৩০ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত বিজিবির

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২২
Shares
জুড়ী-বড়লেখা সীমান্তে ৩০ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত বিজিবির

ছবি: টাইমস টুডে

মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত তিন দিনে দুর্গম পাহাড়ি ও ঘন বনাঞ্চলসংলগ্ন সীমান্তে এসব ঘটনা ঘটে। ৫২ বিজিবি (বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন) দ্রুত পদক্ষেপ, নিবিড় নজরদারি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় এসব চেষ্টা প্রতিহত করে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টার খবর পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। এ সময় ভারতীয় একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকেও বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়।

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা ভারতের আসাম রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষা। এ অঞ্চলের সীমান্তের একটি বড় অংশ দুর্গম পাহাড় ও গভীর জঙ্গলে ঘেরা। এই দুর্গমতাকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের চেষ্টা করে আসছিল। সম্প্রতি ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে পুশইনের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় ৫২ বিজিবি আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল।

৫২ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, গত তিন দিনে প্রায় ৩০ জনকে আমরা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছি। ড্রোন ক্যামেরা, গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক নজরদারির মাধ্যমে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দিন-রাত টহল জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন , সীমান্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় থার্মাল ড্রোন ও নাইট ভিশন ডিভাইস ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় নজরদারি করা হচ্ছে। এর ফলে ঘন জঙ্গলের ভেতরেও কোনো মুভমেন্ট সহজেই ধরা পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুশইনের চেষ্টাকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই বাংলা ভাষাভাষী। তাদেরকে ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে সীমান্তের কাছে এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের পক্ষে সীমান্ত অতিক্রম করা সম্ভব হয়নি। বিজিবি তাদেরকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের জন্য ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এছাড়া একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ভারতীয় নাগরিককেও পুশইনের চেষ্টা করা হয়। পরে তাকে মানবিক বিবেচনায় বিজিবির হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে বিএসএফের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা বিজিবির এই তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল মতিন বলেন, আগে রাতে সীমান্তে অনেক লোকজনের আনাগোনা দেখা যেত। এখন বিজিবির টহল বাড়ায় আমরা নিরাপদ বোধ করছি।

ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান আরও বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে ৫২ বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সীমান্তে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ বরদাশত করা হবে না।