শিক্ষা ও সামাজিক খাতে বাজেট সংকোচন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে জার্মানির বড় বড় শহরগুলোতে আগামী ৩১ অক্টোবর দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে একটি নতুন ছাত্র আন্দোলন। তবে এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উগ্র গোষ্ঠীগুলো পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জেন-জি স্টেউট আউফ’ বা ‘জেন-জি রুখে দাঁড়িয়েছে’ নামক নতুন এই ছাত্র উদ্যোগের পক্ষ থেকে রাজধানী বার্লিন ছাড়াও হামবুর্গ, কোলন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশের নিরাপত্তা সতর্কতা ও আশঙ্কা
বার্লিন পুলিশের মুখপাত্র ফ্লোরিয়ান নাথ জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ-কে জানিয়েছেন যে, উগ্র গোষ্ঠীগুলো শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তারা বেশ উদ্বিগ্ন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আমরা তা হতে দেব না। এগুলো কি সত্যিকারের ছাত্র বিক্ষোভ নাকি কেউ কেবল হ্যালোইন নাইটকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছে, তা আমরা গভীরভাবে খতিয়ে দেখব।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, উগ্রপন্থী দলগুলো এই ছাত্র বিক্ষোভের আড়ালে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সহিংসতা চালানো, অগ্নিসংযোগ কিংবা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার ফন্দি আঁটতে পারে।
আয়োজকদের অবস্থান ও দাবি
এদিকে বিক্ষোভের আয়োজকরা সহিংসতার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। গোষ্ঠীটির সহ-উদ্যোক্তা আকরাম সেলো স্থানীয় গণমাধ্যমকে জোর দিয়ে বলেছেন যে, বিক্ষোভটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। যেকোনো ধরনের সহিংসতার সাথে তাদের সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা সবসময় এর থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে।
সংগঠনটির প্রকাশ করা নীতিমালায় তরুণ প্রজন্মের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বাজেট বাঁচানোর পরিবর্তে শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার ওপর বিনিয়োগ বাড়ানোর জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা এমন তরুণ প্রজন্ম, যারা আর চুপচাপ বসে দেখতে রাজি নই যে আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে যেখানে আমাদের কোনো কথাই শোনা হচ্ছে না। আগামী ৩১ অক্টোবর কেবল আমাদের এই লড়াইয়ের শুরুমাত্র।


