জাপানের বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে প্রায় ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা করছে বাংলাদেশ সরকার।
চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ূন কবির।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সফরের দ্বিতীয় দিনে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠক, গার্ড অব অনার গ্রহণ, যৌথ প্রেস ব্রিফিং ও মধ্যাহ্নভোজসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
হুমায়ূন কবির জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার বিষয়ে দুই দেশের নেতা একমত হয়েছেন।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারি, বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব এবং বিগত সরকারের ১৫ বছরের দুর্নীতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ এ অনুরোধ জানিয়েছে। জাপান সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জাপানের অর্থায়নে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, টেক সিটি প্রতিষ্ঠা এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবস্থাপনার মতো প্রকল্পগুলো বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। এসব উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনায় যৌথ মন্ত্রিপর্যায়ের কমিটি ও নিয়মিত পর্যালোচনা ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও জাপানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাপানের বিশেষ দূতের ভূমিকা এবং দেশটির সহযোগিতার আশ্বাসের কথা তুলে ধরে হুমায়ূন কবির জানান, আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের অংশ হিসেবে তিনি জাপানের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল এবং চিবা লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে এলএনজি টার্মিনাল ও আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ বাড়ানো এবং ভাষাগত বাধা দূর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও জাপানি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠকে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলোচনায় মূলত নীতিগত ও কৌশলগত বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য পরে জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন উপস্থিত ছিলেন।


