...|...|...

জাতীয়

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩২ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:১৪
Shares
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর শেষে সার্বিক পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাতিসংঘকেন্দ্রিক আটটি কর্মসূচি ছিল। এ সময় সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সাথে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বা কার্যক্রম, ছয়টি বক্তব্য এবং সাধারণ পরিষদে একটি ভাষণ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সদস্যরা চার দিনে প্রায় ৫০টি পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ৩০টি কর্মসূচির মধ্যে আটটি ছিল সরাসরি জাতিসংঘের সাথে সম্পর্কিত। এর মধ্যে ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশগ্রহণ এবং সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণ ছিল অন্যতম।

সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া ব্রেকফাস্ট সেশনেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নেন বলে জানান মাহদী আমিন।

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

মাহদী আমিন জানান, ‘হাই লেভেল মিটিং অন ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্ট ট্রানজিশন’ এবং ‘হাই লেভেল মিটিং অন সি লেভেল রাইজ’ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

জলবায়ু সহনশীলতা তৈরি, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ আরও কার্যকর করা এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জাতিসংঘের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফারি এবং মাতৃমৃত্যু কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

মাহদী আমিন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি এক লাখ অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী স্বাস্থ্যকর্মী রাখার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং জনগণের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান মিয়ানমারে হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দুটি বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। একদিকে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে; অন্যদিকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মহল থেকে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।

সাধারণ পরিষদে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, ভাষণে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, সরকারের নীতি এবং দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের জন্য ‘থ্রি-আর’ রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন নীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড ও ইউনিভার্সাল কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির রূপরেখাও জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপরও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।