...|...|...

কৃষি ও প্রকৃতি

জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

জলবায়ু সংকটে বিপর্যস্ত ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ, ঝুঁকিতে বাংলাদেশও

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৩১
Shares
জলবায়ু সংকটে বিপর্যস্ত ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ, ঝুঁকিতে বাংলাদেশও

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯ কোটি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। খরা, বন্যা ও অসহনীয় তাপপ্রবাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য জলবায়ু তহবিল বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

আসন্ন কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলন সামনে রেখে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এমন সব দেশে বসবাস করছেন, যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান এর অন্যতম উদাহরণ।

ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার (অপারেশন্স) অ্যান্টন লেইস গার্সিয়া বলেন, সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় বিপর্যস্ত অঞ্চলগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া শুধু উন্নয়নের বিষয় নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষার জন্য অপরিহার্য। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে জলবায়ু সহায়তা পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগের উদাহরণ হিসেবে সুদানের এক নাগরিকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালের জুনে আল-ফাশিরে সংঘাত শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে তিনি পূর্ব চাদের ফারচানা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন। সেখানে তীব্র গরমে নদী ও জলাশয়ের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় খাবার পানির জন্য তাকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। অনেক সময় টানা এক সপ্তাহেও নিরাপদ পানির দেখা পান না তিনি।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার পথ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করা শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এমন এলাকায় ফিরেছেন, যেগুলো জলবায়ু বিপর্যয়ের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর উদাহরণ হিসেবে সিরিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে ফিরে যাওয়া প্রায় ৪০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ পানির সংকট ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের সমস্যায় পড়েছেন। এর মধ্যে গত মে মাসে ইউফ্রেটিস বা ফোরাত নদীর বন্যায় হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অনেকে আবারও বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হন।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকার প্রতি তিনটি শরণার্থী শিবিরের একটিতে বছরে অন্তত ১০০ দিন প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।

এমনকি ইথিওপিয়ার হেলাওয়েনের মতো কয়েকটি শরণার্থী শিবিরে বছরে ২০০ দিনের বেশি সময় ধরে তীব্র তাপপ্রবাহ স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও সংঘাতের সম্মিলিত প্রভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।