...|...|...

সারাদেশ

ছিনতাইয়ের বাইক বিক্রির বিজ্ঞাপন, পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেফতার ৪

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:৪০
Shares
ছিনতাইয়ের বাইক বিক্রির বিজ্ঞাপন, পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেফতার ৪

ছিনতাইয়ের বাইক বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে পুলিশ কনস্টেবল গ্রেফতার। ছবি: টাইমস টুডে

চট্টগ্রাম নগরে এক যুবককে মারধর করে সাড়ে ৫ লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ছিনতাইয়ের পর সেই মোটরসাইকেলই ফেসবুকে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। পরে ক্রেতা সেজে ভুক্তভোগীর যোগাযোগ এবং পুলিশের পাতা ফাঁদে ধরা পড়েছেন বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইন্সের কনস্টেবল অনিক দাশসহ চারজন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নগরের বায়েজিদ লিংক রোড, পাহাড়তলী ও সীতাকুণ্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে খুলশী থানা-পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলসহ অপরাধে ব্যবহৃত আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার অন্য তিনজন হলেন ওয়াহিদ মোহাম্মদ জেবল হোসেন ওরফে অনিক ওয়াহিদ (৩৯), মহিউদ্দিন সেলিম (৫২) এবং মোহাম্মদ ওয়াহিদ নাসির ওরফে ডায়মন্ড (৩৮)।

পুলিশ জানায়, গত ১৬ অক্টোবর রাতে বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেলে কক্সবাজার ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হন মারুফুর রহমান অপু (২২)। রাত আনুমানিক একটার দিকে নগরের খুলশী থানাধীন জাকির হোসেন রোডে ফয়েজ লেক চক্ষু হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে একটি মেরুন রঙের ব্যক্তিগত গাড়ি ও দুটি মোটরসাইকেল তাদের পথ আটকে দেয়।

এ সময় গাড়ি থেকে নেমে কয়েকজন অপুকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তার প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাকে জোর করে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে হুমকি দিয়ে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।

মোটরসাইকেল হারিয়েও হাল ছাড়েননি অপু। ঘটনার কয়েক দিন পর ফেসবুকে ‘অহমি’ নামের একটি আইডি থেকে নিজের ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখতে পান তিনি। এরপর কৌশলে ক্রেতা সেজে বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করেন। মোটরসাইকেলটি কেনার বিষয়ে দরদামও চূড়ান্ত করেন তিনি। অগ্রিম হিসেবে পাঠান ৫ হাজার টাকা।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল হস্তান্তরের জন্য অপুকে বায়েজিদ লিংক রোডের মুখে পুলিশ বক্সের সামনে আসতে বলা হয়। নির্ধারিত স্থানে মোটরসাইকেল নিয়ে হাজির হন কনস্টেবল অনিক দাশ। আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা খুলশী থানা-পুলিশের সহায়তায় সেখানেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে অনিক দাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য পায় পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলী, বায়েজিদ লিংক রোড ও সীতাকুণ্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকি তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলসহ মোট তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বুধবার (২১ অক্টোবর) গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় অপহরণ, ডাকাতি ও চোরাই মাল রাখার অভিযোগে খুলশী থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়িটি উদ্ধারের চেষ্টাও চলছে।