ভোরের কুয়াশা আর ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। শীতকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড়-পাটালি তৈরির প্রস্তুতি। জেলার বিভিন্ন এলাকার গাছিরা খেজুর গাছ পরিচর্যা ও রস সংগ্রহের সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি শীত মৌসুমে জেলায় প্রায় ৮০ কোটি টাকার খেজুরের গুড় ও পাটালি বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার প্রতিটি মাঠ, রাস্তার পাশ, পুকুরপাড় কিংবা অনাবাদি জমিতে অযত্নে বেড়ে ওঠা খেজুর গাছ এখন জেলার অর্থনীতির অন্যতম সম্ভাবনাময় সম্পদ। শীত মৌসুমে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় ও পাটালি তৈরি করেন জেলার কয়েক হাজার গাছি। এ মৌসুমি ব্যবসার আয় দিয়ে বছরের পাঁচ থেকে ছয় মাস স্বাচ্ছন্দ্যে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক পরিবার। পাশাপাশি খেজুরের গুড়-পাটালির বাণিজ্য ঘিরে চাঙা হয়ে ওঠে স্থানীয় অর্থনীতি।
শীতের আগমনী বার্তা পেয়ে গাছিরা ইতোমধ্যে খেজুর গাছের ডালপালা পরিষ্কার, গাছ প্রস্তুত ও রস সংগ্রহের প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করেছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে রস সংগ্রহ এবং তা থেকে গুড়-পাটালি তৈরির মৌসুমি কর্মযজ্ঞ।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব গুড় ও পাটালির চাহিদা রয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এমনকি অনেক ব্যবসায়ী ও ক্রেতা দেশের বাইরেও চুয়াডাঙ্গার খেজুরের গুড়-পাটালি পাঠিয়ে থাকেন।
তবে খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদনে স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। গাছিদের নিরাপদ ও সঠিক পদ্ধতিতে রস সংগ্রহ এবং মানসম্মত গুড়-পাটালি তৈরিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদনে স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি নিশ্চিত করতে গাছিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রায় ৩ লাখ খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা।
শীতের মৌসুমি এই বাণিজ্য শুধু গাছিদের জীবিকার সংস্থানই করছে না, বরং চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।



