...|...|...

সারাদেশ

বিদ্যালয়ের দেওয়ালে ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’ স্লোগান, ছাত্রীদের দাবি ‘ইয়ার্কি’

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৪৫
Shares
বিদ্যালয়ের দেওয়ালে ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’ স্লোগান, ছাত্রীদের দাবি ‘ইয়ার্কি’

বিদ্যালয়ের দেওয়ালে ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’ স্লোগান। ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের একটি বসতবাড়ির  দেওয়ালে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হাসিনা’, ‘মুজিব সেনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখার ঘটনায় ছয় ছাত্রীকে শনাক্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জিজ্ঞাসাবাদে ছাত্রীদের দাবি, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, ‘ইয়ার্কির ছলে’ তারা  দেওয়ালে এসব স্লোগান লিখেছে। তবে তাদের শরীরী ভাষা ও আচরণে বিষয়টি নিছক মজার বলে মনে হয়নি বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের একটি বসতবাড়ির  দেওয়ালে কয়েকজন ছাত্রীর স্লোগান লেখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির একজন ও সপ্তম শ্রেণির চারজন ছাত্রীকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সপ্তম শ্রেণির আরও এক ছাত্রী এবং নেপথ্যে থাকা অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর নাম সামনে আসে।

আজ শুক্রবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ডাকে অভিযুক্ত ছয় ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ছাত্রীদের লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি এম তারিক উজ্জামান ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ফাহাদ চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্য নেওয়া শেষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিমসহ শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ঘটনাস্থলের স্থিরচিত্র সংগ্রহ করেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ছয় ছাত্রীর মধ্যে একজন পঞ্চম শ্রেণির এবং পাঁচজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেছে, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা কারও প্ররোচনায় নয়, নিছক ইয়ার্কির ছলে  দেওয়ালে এসব স্লোগান লিখেছে। তাদের পরিবারের সদস্যরাও কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নন বলে জানিয়েছে তারা।

সূত্রটি আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের শেষ পর্যায়ে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী তার বক্তব্যে জানায়, ঘটনার সময় ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী তাদের  দেওয়ালে এসব লিখতে নির্দেশ দিয়েছিল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম জানান অভিযুক্তদের মধ্যে একজন  দেওয়ালে লেখার কথা স্বীকার করেছে। অন্যরা দাবি করেছে, তারা শুধু সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল এবং কী লেখা হবে, তা জানত না।

তবে ছাত্রীদের দাবির সাথে একমত নন প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বা শরীরী ভাষা কিন্তু নিরপরাধ কিছু বলছিল না। এমনকি একজনকে বেশ উত্তেজিত অবস্থায় স্লোগান দেওয়ার ভঙ্গিতেও দেখা গেছে।

এদিকে নেপথ্যে থাকা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বিষয়ে প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শ্রেণিশিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করেছে। আজ বিকেলের মধ্যেই ওই ছাত্রীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পুরো বিষয়টি জেলা ও পুলিশ প্রশাসন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাত্রীদের কাছ থেকে কোনো মুচলেকা নেওয়া হয়নি। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে কেবল তাদের লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির অভিযুক্ত ছাত্রীর বক্তব্য পাওয়ার পর পুরো ঘটনার একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে। পরে ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশ এবং প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী চূড়ান্ত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে,  দেওয়ালে স্লোগান লেখার ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে বিএনপি। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রাতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে শহীদ হাসান চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন,  দেওয়ালে স্লোগান লেখার বিষয়টি জানার পর তিনি প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলেছেন। বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের দিয়ে  দেওয়ালের লেখাগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।