সরকারি প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে চারটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থের যথাযথ ব্যবহার, বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন, কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়গুলো নিশ্চিত না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ‘বিদেশ নির্ভরতা পেরিয়ে: বাংলাদেশে এনজিও অর্থায়নের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। শুধু মানুষের কথা শোনা নয়, তাদের সমস্যার কার্যকর সমাধান দেওয়ার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মানব উন্নয়ন, স্থানীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তার মতে, সৃজনশীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এনজিও ও অন্যান্য অংশীজন ইতোমধ্যে কাজ করছেন। এসব উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে সরকার, এনজিও ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া প্রয়োজন।
প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এনজিওগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে নীতি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করা গেলে এনজিওগুলোর টেকসই অর্থায়নের সুযোগ আরও বাড়বে।
দেশীয় ঐতিহ্য ও কারুশিল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শীতলপাটিসহ স্থানীয় বিভিন্ন পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়ার ওপর জোর দেন। এ জন্য আধুনিক নকশা, পণ্যের মূল্য সংযোজন এবং কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রকল্প অনুমোদনের চার শর্তের ব্যাখ্যায় মন্ত্রী বলেন, প্রথমত প্রকল্পে অর্থের যথাযথ ব্যবহার বা ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত রিটার্ন থাকতে হবে। তৃতীয়ত প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি অথবা নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ থাকতে হবে। চতুর্থত পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে এই চারটি বিষয় নিশ্চিত না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না।
সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকী, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।


