...|...|...

সারাদেশ

চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীর কলোনির ভাড়া তুললেন কথিত যুবদল নেতা

ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:২৯
Shares
চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীর কলোনির ভাড়া তুললেন কথিত যুবদল নেতা

জাফর আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ফেনী শহরের মহিপালে চাঁদা না পেয়ে এক প্রবাসীর মালিকানাধীন কলোনির ভাড়া তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাফর আহমেদ নামে স্থানীয় কথিত এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রবাসীর স্ত্রী। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভয়ভীতি দেখিয়ে কলোনির নয়জন ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে ২৭ হাজার টাকা আদায় করেছেন জাফর।

অভিযোগকারী মনোয়ারা বেগম ফেনী পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও প্রবাসী রবিউল হকের স্ত্রী। ওই ওয়ার্ডের চাড়িপুর এলাকায় মহিপাল চৌধুরী বাড়িসংলগ্ন স্থানে স্ত্রীর নামে ৬ দশমিক ২৫ শতক জমি কেনেন রবিউল হক। জীবনের সঞ্চয় ও সহায়-সম্বল বিক্রি করে ২০২৩ সালে শাহেদ চৌধুরীর কাছ থেকে ১২টি সেমিপাকা কক্ষবিশিষ্ট কলোনিটি কিনে নেন তিনি। এরপর থেকে জমি ও কলোনিটি তাদের দখলে রয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

মনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, প্রায় এক মাস আগে থেকে স্থানীয় ইলিয়াসের ছেলে জাফর নিজেকে নির্যাতিত যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে দলবল নিয়ে ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কলোনির ভাড়া নিজের কাছে দিতে চাপ দেন তিনি। একপর্যায়ে নয়জন ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে মোট ২৭ হাজার টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভাড়াটিয়া জানান, গত এক মাস ধরে জাফর তাদের কলোনির মালিককে ভাড়া না দিয়ে তাকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। এ সময় তাদের গালমন্দ ও ভয়ভীতির মুখেও পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, জাফরকে কেন্দ্র করে চাড়িপুর এলাকায় একটি চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় রয়েছে। তার কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহীন।

এদিকে পৌর যুবদলের একাধিক নেতার দাবি, জাফর সংগঠনটির কোনো পদে নেই। তবে তিনি পৌর বিএনপির এক নেতার নাম ব্যবহার করে চলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে জাফর বলেন, ওই এলাকায় ৫৫ শতক জমির মধ্যে ১ দশমিক ৭০ শতক জমির ওয়ারিশসূত্রে তিনি মালিক। এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে এবং সেগুলো ফেনী আদালতের একজন আইনজীবীর কাছে জমা দিয়েছেন। কলোনির ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

তবে কলোনির আগের মালিক শাহেদ চৌধুরী বলেন, প্রবাসী রবিউল হকের কেনা ৬ দশমিক ২৫ শতক জমিতে জাফরের কোনো মালিকানা নেই। এ ছাড়া জাফরের বাবা একটি দলিলের মাধ্যমে ওই এলাকায় তার কোনো জমি নেই বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তারপরও জাফর কীভাবে জমির মালিকানা দাবি করছেন, তা তার জানা নেই বলে জানান শাহেদ চৌধুরী।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’