চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে চলন্ত বাসে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেয় চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) শনিবার রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিককে ফোন করে জানান, বাসে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে পেছনের সিটে বসা এক ব্যক্তি তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করে যৌন হয়রানি করেছেন। এ সময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘটনার কথা জানান।
ফোন পেয়ে তৌফিক বিষয়টি চবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জানান। তার আহ্বানে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমন, সহসভাপতি তৌহিদ, ফারহানসহ কয়েকজন নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে যান। একই সাথে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি জানানো হয়।
পরে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে এসে অভিযুক্ত যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার বন্ধুরাও থানায় উপস্থিত ছিলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কাননের উপস্থিতিতে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়।
সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, ‘আমি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। আমি যাওয়ার আগেই সেখানে হাটহাজারী থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন। অপরাধীকে আমরা সাথে সাথেই থানায় নিয়ে যাই। ভুক্তভোগী ছাত্রী মামলা করতে চেয়েছেন। পরবর্তীতে আমি ওসি সাহেবকে অনুরোধ করি এবং যৌন হয়রানির অপরাধের ধারায় মামলা হয়। সকালে অপরাধীকে কোর্টে চালান করা হয়েছে।’
চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা রয়েছে। সাহস করে ঘটনার কথা জানানোর জন্য তাকে সাধুবাদ জানাই। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন গণপরিবহনে কোনো শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বাস মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে দ্রুত আলোচনা করা হবে।’


