...|...|...

জাতীয়

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে: সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, সকাল ১০:২১ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৮
Shares
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে: সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের ছয় জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি; বরং সরকারের সতর্ক অবস্থানের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে নিজ দফতরের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, দেশে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং সরকার সবসময়ই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর।

মন্ত্রী বলেন, সভা-সমাবেশ করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং এতে গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দলের কিছু “অপতৎপরতা” লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জেলায় ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে মিছিল-সমাবেশ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “অপতৎপরতা ঠেকাতে সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ৩০ জুন পর্যন্ত “ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার” কাঠামোর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সেনা মোতায়েন পুলিশের ওপর আস্থাহীনতার প্রতিফলন নয়; বরং এটি নিয়মিত সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা ছয়টি এলাকা হলো— ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলা।

মন্ত্রী বলেন, এসব এলাকায় সম্ভাব্য নাশকতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে, এক সংসদ সদস্যের ছেলের গ্রেফতার ও পরবর্তীতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান—কারও বিশেষ সুবিধা নেই। অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়।

পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাথে বৈঠকের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে এবং একটি বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি সেটিকে “স্লিপ অব টাং” হিসেবে উল্লেখ করেন।