...|...|...

ঢাকা

গাজীপুরে ব্রিফকেসে খণ্ডিত নারীর লাশের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৫৮
Shares
গাজীপুরে ব্রিফকেসে খণ্ডিত নারীর লাশের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবার পানিতে ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় পাওয়া খণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সাথে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, বগুড়া জেলার শিপগঞ্জ থানার মাসকুর আলমের ছেল মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) এবং গাইবান্ধা জেলার গাদিগঞ্জ থানার তাফাজ্জল হাসানের ছেলে মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)।

পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেফতার তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার রফিক উদ্দিনের মেয়ে। তিনি জয়দেবপুর থানার বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একা থাকতেন। তার স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল।

গত ১১ সেপ্টেম্বর ভবানীপুর এলাকায় হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেডের উত্তর পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের খালের পানিতে একটি ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখা যায়। পরে সেগুলো থেকে খণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন লাশটির পরিচয় জানা যায়নি।

পরে ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে তদন্ত চালিয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।

প্রেমের সম্পর্কের পর বিরোধ

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, ডলি আক্তারের সাথে মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা একই পোশাক কারখানায় চাকরি করার সময় পরিচিত হন। ডলি নিয়মিত মিশনের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসাথে রাতের খাবার খান। পরে বানু পাশের কক্ষে ঘুমাতে গেলে মিশন ও ডলি একই কক্ষে থাকেন।

বিয়ে ও পূর্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে মিশনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই। একপর্যায়ে ডলিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

পিবিআইয়ের দাবি, ওই রাতে ডলিকে ঘুমের ওষুধ ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে রাত আনুমানিক দুইটার দিকে লুঙ্গি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে এবং পরে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। 

হত্যার  পর লাশ চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরদিন সকালে ঘর পরিষ্কার করার সময় বানু আক্তার লাশ দেখতে পান বলে পিবিআই জানিয়েছে।

পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মিশন একটি স্যুটকেস সংগ্রহ করেন। কিন্তু লাশটি স্যুটকেসে না ধরায় বটি দা ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে দুই টুকরা করা হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।

এরপর লাশের একাংশ স্যুটকেসে এবং অপরাংশ পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়।

পিবিআই জানায়, পরে মিশন তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে বাসা পরিবর্তনের কথা বলে ডেকে আনেন। মিল্টন স্যুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় তুলতে সহযোগিতা করেন। এরপর মিশন, তার মা বানু আক্তার ও মিল্টন মিলে স্যুটকেস ও বস্তা নিয়ে রাজেন্দ্রপুরে যান। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশায় করে ভবানীপুর এলাকায় গিয়ে ব্রিজের নিচের খালের পানিতে সেগুলো ফেলে দেন।

এ সময় মিল্টনের হাতে রক্ত লাগে। তিনি স্যুটকেস ও বস্তার ভেতরে কী আছে জানতে চাইলে মিশন তাকে ডলি আক্তারের লাশ থাকার কথা জানান বলে পিবিআইয়ের ভাষ্য।

বাসা থেকে বটি দা, এনআইডি ও মোবাইল উদ্ধার

পিবিআই জানায়, গ্রেফতারের পর আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিশনের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বটি দা, লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, নিহত ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্যুটকেস কেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।