...|...|...

সারাদেশ

অর্থনীতি সমৃদ্ধ জেলায় হিমাগার নেই, দ্বিগুণ লোকসান কৃষকদের

রাজন হোসেন তৌফিক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:২৬
Shares
অর্থনীতি সমৃদ্ধ জেলায় হিমাগার নেই, দ্বিগুণ লোকসান কৃষকদের

পাহাড়ি ঢাল, উর্বর মাটি আর অনুকূল আবহাওয়ায় এখানে বছরজুড়ে ফলে আলু, টমেটো, করলা, শিম, লেবু, আনারস। কৃষি অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ মৌলভীবাজার কমলগঞ্জ শ্রীমঙ্গল কৃষকদের চোখে এখন শুধু হতাশা। কারণ একটি হিমাগার নেই।

মৌসুমে বাজারে ফসল উঠলে দাম তলানিতে। সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় পচনের ভয়ে উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সরকারি পর্যায়ে বারবার আলোচনা হলেও বাস্তবে মেলেনি একটি হিমাগার।

কমলগঞ্জের আদমপুর, মাধবপুর, আলীনগর, ইসলামপুর, রহিমপুর এবং শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় এখন বাণিজ্যিকভাবে কৃষি হচ্ছে।

কমলগঞ্জের টমেটোচাষি আব্দুল মতিন বলেন, বাজারে দাম কমে গেলে কিছু করার থাকে না। হিমাগার থাকলে ফসল রেখে ১৫-২০ দিন পর ভালো দামে বিক্রি করা যেত।
  
আরেক চাষি করিম মিয়া বলেন, মৌসুমে একসাথে সব টমেটো বাজারে আসে। তখন কেজি ১০ টাকাও হয় না। হিমাগার থাকলে ন্যায্য দাম পেতাম।

আলুচাষিদের দ্বিগুণ লোকসান:
 
হিমাগারের অভাবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে আলুচাষিরা। স্থানীয়ভাবে বীজ আলু সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় প্রতি বছর অন্য জেলা থেকে চড়া দামে বীজ কিনতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ে, সাথে বাড়ে বাইরের বাজারের উপর নির্ভরশীলতা।

কৃষকরা বলছেন, হিমাগার থাকলে নিজেদের উৎপাদিত আলু বীজ হিসেবে রাখা যেত। আবার দাম কম থাকলে সংরক্ষণ করে ২-৩ মাস পর বিক্রি করে লোকসান এড়ানো যেত।

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য:

সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে মৌসুমে পাইকার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে কম দামে ফসল বিক্রি করছেন। হিমাগার থাকলে কৃষকরা নিজেরাই বাজারদর বুঝে পণ্য বিক্রির সুযোগ পেতেন বলে মনে করেন তারা।

সরকারি উদ্যোগ কোথায়: 

স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে হিমাগার স্থাপনের জন্য সরকারি পর্যায়ে একাধিকবার জায়গা নির্বাচন ও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় তা আটকে আছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, লেবু, আনারস ও সবজি নষ্ট হয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শ্রীমঙ্গলে হিমাগার স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলের জন্য একটি হিমাগার অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

কমলগঞ্জ ইউএনও সন্দ্বীপ তালুকদার বলেন, জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছি। 

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, কৃষকদের স্বার্থে মৌলভীবাজারে হিমাগার স্থাপনের বিষয়ে আমরা বিভিন্ন ফোরামে নিয়মিত কথা বলছি। এটি হলে কৃষকরা অনেক উপকৃত হবেন।

কৃষকদের দাবি একটাই:  

আমরা ভর্তুকি চাই না, শুধু ফসল রাখার জায়গা,  চাই এই এক দাবিতে এখন একজোট শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের হাজারো কৃষক। তাদের মতে, একটি আধুনিক হিমাগার স্থাপন হলেই বদলে যাবে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির চিত্র।