...|...|...

খুলনা

খুমেক হাসপাতালে টয়লেট সংকট, সমাধান সামনে রেখেই অপেক্ষা!

মেহেদী হাসান
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:২০
Shares
খুমেক হাসপাতালে টয়লেট সংকট, সমাধান সামনে রেখেই অপেক্ষা!

আধুনিক পাবলিক টয়লেট। ছবি: টাইমস টুডে

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজারো মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে রোগী আসেন এখানে। সাথে থাকেন স্বজনরাও। কেউ কয়েক ঘণ্টা, কেউবা দিনের পর দিন হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করেন প্রিয়জনের চিকিৎসার প্রয়োজনে। কিন্তু চিকিৎসার এই ব্যস্ততার মধ্যেই একটি মৌলিক নাগরিক সুবিধার অভাব তাদের ভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে ব্যবহার উপযোগী পাবলিক টয়লেট।

হাসপাতালের আউটডোরের সামনে অবশ্য সেই সংকট কিছুটা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২২ মোড়ের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে একটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট। নির্মাণকাজ শেষ। অবকাঠামোও প্রস্তুত। কিন্তু এখনো সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। ফলে একদিকে নতুন একটি জনবান্ধব অবকাঠামো প্রস্তুত হয়ে আছে, অন্যদিকে হাসপাতালের রোগী-স্বজনদের একটি অংশকে বিদ্যমান টয়লেট ব্যবহারে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

সরেজমিনে হাসপাতাল এলাকায় আসা রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ সময় হাসপাতালে অবস্থান করলেও টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও সহজে ব্যবহারযোগ্য টয়লেটের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি।

যশোর থেকে পিতাকে নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন রোগীর স্বজন জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, আমি যশোর থেকে এসেছি। হাসপাতালের ভেতরে যে বাথরুম আছে, সেগুলো ব্যবহার করার মতো নেই। অনেক নোংরা, আবার পানি থাকে না। বাইরে চা খেতে এসে দেখি এই বাথরুমটি আছে, কিন্তু সেটাও বন্ধ। আমরা চাই, এটি দ্রুত চালু হোক।

আরেক রোগীর স্বজন মো. আনাস হোসেন বলেন, ছেলেকে সকাল থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য দুপুর পর্যন্ত আছি। দুঃখের বিষয়, হাসপাতালে যে টয়লেটগুলো আছে তা প্রায়ই ব্যবহারের অনুপযোগী। বাইরে দেখলাম খুব সুন্দর একটি আধুনিক টয়লেট আছে, তবে সেটি এখনো চালু হয়নি। আমরা চাই এটি দ্রুত চালু হোক এবং আমাদের ভোগান্তি কমুক।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতাল এলাকায় পরিচ্ছন্ন ও পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা শুধু আরামের বিষয় নয়; এটি রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা-সহায়ক অবকাঠামো। বিশেষ করে হাসপাতালের মতো জায়গায় অপরিচ্ছন্ন স্যানিটেশন ব্যবস্থা পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।

এ কারণে নতুন নির্মিত টয়লেটটি শুধু একটি স্থাপনা হিসেবে পড়ে না থেকে দ্রুত জনগণের কাজে লাগানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন রোগী ও স্বজনরা। তাদের প্রত্যাশা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা করে টয়লেটটি চালু করা হবে, যাতে কিছুদিন পর এটি আবার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে না পড়ে।

এ বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা গাজী সালাহউদ্দিন বলেন, পাবলিক টয়লেটটির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে খুব দ্রুত টেন্ডারের মাধ্যমে এটি চালু করা হবে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, রোগী ও তাদের স্বজনদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই ২২ মোড়ের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক পাবলিক টয়লেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি চালু করা হবে। এতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের টয়লেট ব্যবহারের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আমরা আশা করছি।

প্রশ্ন এখন একটাই প্রস্তুত অবকাঠামোটি কবে নাগাদ মানুষের কাজে আসবে?

রোগী-স্বজনদের প্রত্যাশা, টেন্ডারসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করে পাবলিক টয়লেটটি চালু করা হবে। একই সাথে এর নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানি সরবরাহ, আলো-বাতাস, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা থাকবে। কারণ একটি আধুনিক টয়লেট নির্মাণ করাই শেষ কথা নয়। সেটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সবার জন্য ব্যবহারযোগ্য রাখাই জনসেবার প্রকৃত সাফল্য।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হাজারো মানুষের জন্য নতুন এই পাবলিক টয়লেটটি দ্রুত চালু হলে তাদের দীর্ঘদিনের একটি মৌলিক ভোগান্তি অন্তত কিছুটা কমবে এমন প্রত্যাশাই এখন রোগী, স্বজন ও স্থানীয়দের।