খুলনার বটিয়াঘাটার ইব্রাহিম শেখকে অতিরিক্ত জেল খাটানোর ঘটনায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর বেঞ্চ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষে রিটটি করেন গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হাসান শহিদ কারুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
বটিয়াঘাটা উপজেলার ইব্রাহিম শেখ নৈশ প্রহরীর কাজ করতেন। ২০০৩ সালে রাতের পাহারা শেষে সকালে বাড়ি ফেরার পথে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারেননি। দায়রা আদালত তাকে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
২০১৭ সালের ২০ জুলাই হাইকোর্ট তাকে মৃত্যুদণ্ডের মামলা থেকে খালাস দেন। যাবজ্জীবন সাজার অন্য মামলা থেকেও তিনি খালাস পান।
কিন্তু তদবিরের অভাবে খালাসের আদেশের কপি কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছাতে প্রায় আট বছর লেগে যায়।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ২২ বছর কারাগারে থাকার সময় ইব্রাহিমের মা মারা যান এবং স্ত্রী অন্যত্র চলে যান। দীর্ঘ কারাবাসে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। চরম দারিদ্র্যের কারণে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।
বিষয়টি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট মানবিক বিবেচনায় হাইকোর্টে রিট করে। তারা ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, পূর্ণ পুনর্বাসন, বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবার দাবি জানায়।
রুলে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন, খালাসের আদেশ আট বছর ধরে পাঠানো ও কার্যকর না করাকে কেন অবহেলা হিসেবে বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না। সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবেও কেন তা ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে দীর্ঘ আটকাদেশে স্বাধীনতা, মর্যাদা ও জীবিকা হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে অবিলম্বে ৫ কোটি টাকা বা দৃষ্টান্তমূলক অন্য কোনো অঙ্কের অর্থ কেন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও বিবাদীদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।


