...|...|...

খুলনা

খাদ্যগুদামে যাওয়ার পথে ২০ টন সরকারি চাল উধাও

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬, রাত ১:০৩ | আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৫৮
Shares
খাদ্যগুদামে যাওয়ার পথে ২০ টন সরকারি চাল উধাও

মহেশ্বরপাশা কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার। ছবি: টাইমস টুডে

খুলনার মহেশ্বরপাশা কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার থেকে যশোরের ঝিকরগাছা খাদ্যগুদামে পাঠানোর জন্য রওনা হওয়া প্রায় ২০ মেট্রিক টন সেদ্ধ চালবোঝাই একটি ট্রাক সাত দিনেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ চালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। এ ঘটনায় পরিবহন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও চাল পরিবহনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

খাদ্য সংরক্ষণাগার সূত্র জানায়, গত ২৯ জুলাই মহেশ্বরপাশা কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারের ১৫ নম্বর গুদাম থেকে যশোরের ঝিকরগাছা খাদ্যগুদামে পাঠানোর জন্য প্রায় ২০ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল ঢাকা মেট্রো-১৫-২৪৩৫ নম্বরের একটি ট্রাকে লোড করা হয়। পরিবহন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনামিকা ট্রেডার্সের মালিক মো. সাহিল উদ্দিন নিজে উপস্থিত থেকে চাল লোড করান। চালানপত্র ও গেটপাস গ্রহণের পর বিকেল ৫টার দিকে ট্রাকটি সংরক্ষণাগার ত্যাগ করে।

কিন্তু পরদিন ৩০ জুলাই ঝিকরগাছা খাদ্যগুদামের খাদ্য পরিদর্শক মো. আল আমিন কবির বিশ্বাস সংরক্ষণাগার কর্তৃপক্ষকে জানান, চালের চালানটি গুদামে পৌঁছেনি। এরপর থেকেই চালবোঝাই ট্রাকটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

ঘটনার পর একই দিন পরিবহন ঠিকাদার মো. সাহিল উদ্দিন খুলনার দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগে উল্লেখ করা ট্রাকের নম্বর ও চালকের পরিচয় যাচাই করতে গিয়ে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে।

দৌলতপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগে উল্লিখিত ট্রাক নম্বরটি যাচাই করে দেখা গেছে সেটি একটি ডাম্প ট্রাক, যা বর্তমানে কুমিল্লা এলাকায় চলাচল করছে। এছাড়া চালক ও হেলপারের দেওয়া দুটি মোবাইল নম্বর যথাক্রমে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার দুই নারীর নামে নিবন্ধিত। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পরিবহন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনামিকা ট্রেডার্সের মালিক মো. সাহিল উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মহেশ্বরপাশা কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারের ব্যবস্থাপক মো. মোশারেফ হোসেন বলেন, সংরক্ষণাগার থেকে চাল লোড করে ট্রাক চালান ও গেটপাস নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পরিবহন ঠিকাদারের। ট্রাক নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ৪৫ দিনের মধ্যে চাল উদ্ধার করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চালের দেড় গুণ মূল্য সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। একইসাথে ওই পরিবহনের বিলও বাতিল করা হবে।

এদিকে সরকারি খাদ্যশস্য পরিবহনে এমন ঘটনার পর পরিবহন ব্যবস্থাপনা, ঠিকাদার নির্বাচন এবং চাল পরিবহনে তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।