...|...|...

সারাদেশ

৭ বছরেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ, দুর্ভোগে পানছড়ির ১৫ গ্রামের মানুষ

সাকিব মামুন, খাগড়াছড়ি
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১৮ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১৯
Shares
৭ বছরেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ, দুর্ভোগে পানছড়ির ১৫ গ্রামের মানুষ

সড়ক আছে, কিন্তু যেন চলাচলের উপায় নেই। কোথাও বড় গর্ত, কোথাও উঠে গেছে সড়কের মেকাডম। বর্ষায় গর্তে পানি জমে তৈরি হয় আরও দুর্ভোগ। কোনো কোনো অংশে যানবাহন চলাচলও হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এভাবেই বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার নালকাটা থেকে প্রদীপ পাড়া পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় ছয়-সাত বছর আগে সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হলেও অর্ধেক কাজ করার পর তা ফেলে রাখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন সংস্কার ও অবশিষ্ট কাজ না হওয়ায় করা অংশটুকুও এখন নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে প্রদীপ পাড়া, মধু পাড়া, পুরান পাড়া, শুকনাছড়িসহ আশপাশের ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের মানুষের জন্য সড়কটি এখন দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। বিকল্প সড়ক না থাকায় বেহাল অবস্থার মধ্যেই বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হয় তাদের। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের। জরুরি প্রয়োজনে তাদের উপজেলা সদর বা অন্যত্র নিতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

শুধু যাতায়াত নয়, সড়কের বেহাল অবস্থার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় কৃষিতেও। এলাকার মানুষ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করেন। কিন্তু সড়কের কারণে সময়মতো পণ্য বাজারে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তাদের। একইভাবে বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিজ এলাকায় আনা-নেওয়াতেও অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন আগে কাজ শুরু হলেও অর্ধেক করার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর কাজ করেনি। সময়ের সাথে কাজ করা অংশও নষ্ট হয়ে পুরো সড়ক খানাখন্দে ভরে গেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এলাকাবাসীর কেউ কেউ অভিযোগ করেন, কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরো বিল তুলে নিয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) পানছড়ি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাজু আহমেদ এই অভিযোগ নাকচ করেছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাজু আহমেদ বলেন, নালকাটা থেকে শুকনাছড়ি (প্রদীপ পাড়া) পর্যন্ত সড়কটির কাজ ইউটিমং নামের ঠিকাদারের ছিল। ঠিকাদার সড়কের বেইস পোস্ট পর্যন্ত কাজ করে এরপর আর কাজ করেননি। তাকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও কাজ শেষ করেননি।

তিনি বলেন, ঠিকাদার কাজ না করায় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার কাজ বাতিল করা হয়েছে এবং জরিমানাও আরোপ করা হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর পুরো বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। ঠিকাদার যতটুকু কাজ করেছেন, ততটুকুরই বিল পেয়েছেন।

রাজু আহমেদ আরও বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে অবশিষ্ট কাজের প্রাক্কলন করা হয়েছে। এটি অনুমোদনের পর টেন্ডার আহ্বান করা হবে। আগামী মাস থেকে নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে সড়কের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির দুরবস্থার কারণে তাদের নিয়মিত যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন পাওয়া গেলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার আশায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন। কিন্তু কাজ শুরু হয়েও শেষ না হওয়ায় তাদের সেই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই কমবে না, স্থানীয় কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হবে এবং এলাকার মানুষের জীবনযাত্রাতেও স্বস্তি ফিরবে।

তাদের দাবি, নতুন করে টেন্ডার আহ্বান ও ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে সড়কটির কাজ শুরু এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের মানুষ দ্রুত মুক্তি চান।