রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার গাইন্দ্যা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কমলছড়ি পাড়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কমলছড়ি পাড়াসহ আশপাশের ৫–৬টি গ্রামের মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশা থাকলেও স্থায়ীভাবে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ও কাদায় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে গর্ত ও ভাঙা অংশ। এতে পায়ে হেঁটে চলাচল থেকে শুরু করে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের কাছে সড়কটি শুধু যাতায়াতের পথ নয়; এর সাথে জড়িয়ে আছে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকা। স্থানীয় কৃষকেরা পাহাড়ি কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে উৎপাদিত পণ্য সময়মতো বাজারে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হয়। ফলে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
এ ছাড়া স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। সড়কটি খারাপ থাকায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে উপজেলা সদর বা নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কমলছড়ি পাড়ার কারবারি অংসিংমং মারমা বলেন, “আমাদের পাড়ার এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভালো অবস্থায় নেই। পাড়ার মানুষ প্রতিদিন নানা কাজে এই রাস্তা ব্যবহার করেন। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া, অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যাওয়ার সময় মানুষকে অনেক কষ্ট করতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এই সড়কটি সংস্কার করা হলে শুধু কমলছড়ি পাড়ার মানুষ নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষও উপকৃত হবেন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক।”
কমলছড়ি পাড়া বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি নুএমং বলেন, “সড়কটি আমাদের এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে মানুষকে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় চলাচলে অনেক সমস্যা হয়।”
তিনি বলেন, “বয়স্ক মানুষ, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য দুর্ভোগটা আরও বেশি। একটি রাস্তা ভালো থাকলে মানুষের জীবনযাত্রা অনেক সহজ হয়। তাই দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
কমলছড়ি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি উয়ইমং মারমা বলেন, “এই এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্যও সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার অবস্থা খারাপ থাকলে বৃষ্টির সময় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় অভিভাবকরাও সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন।”
তিনি আরও বলেন, “যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে এলাকার শিক্ষার পরিবেশও আরও ভালো হবে। পাশাপাশি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারে নিতে পারবেন। তাই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।”
পাড়ার গণ্যমান্য ব্যক্তি গংজক বলেন, “একটি এলাকার উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা। কমলছড়ি পাড়া সড়কটি যদি সংস্কার করা হয়, তাহলে ৫–৬টি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে।”
তিনি বলেন, “বর্তমানে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে নানা সমস্যায় পড়েন। সড়ক ভালো হলে পরিবহন ব্যবস্থা সহজ হবে, সময় ও খরচ কমবে এবং কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ বাড়বে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা অংক্যনু মারমা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে এলাকার সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।”
তিনি বলেন, “এই সড়কের সাথে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ও জীবিকা জড়িত। কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে পারেন না সহজে, শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে স্কুলে যায় এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনেও সমস্যা হয়। তাই জনসাধারণের দুর্ভোগ বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটির সংস্কার করা দরকার।”
স্থানীয়রা জানান, কমলছড়ি পাড়া ও আশপাশের গ্রামগুলোতে কৃষি ও স্থানীয় উৎপাদননির্ভর অনেক পরিবার রয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করার পাশাপাশি নতুন ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান ও ছোট পরিসরের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তাদের মতে, সড়কটি সংস্কার হলে একদিকে সাধারণ মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ ঘটবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াত সহজ হবে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক সেবার সাথে স্থানীয় মানুষের যোগাযোগ আরও বাড়বে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে সড়কটির বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজের উদ্যোগ নেবে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে কমলছড়ি পাড়া সড়কটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করার দাবি তাদের।
তাদের দাবি, একটি রাস্তার সংস্কার শুধু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নয়-এর সাথে জড়িয়ে থাকে মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবিকার সম্ভাবনা। কমলছড়ি পাড়া সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে ৫–৬টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি হবে।


