...|...|...

সারাদেশ

একনেকে অনুমোদন, উন্নত হবে রাঙামাটির তিন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক

রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৩৩
Shares
একনেকে অনুমোদন, উন্নত হবে রাঙামাটির তিন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক

রাঙামাটি জেলার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে জেলার দুর্গম ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ ও নিরাপদ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত তৃতীয় একনেক সভায় ‘চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতায় জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার মোট ১৬টি সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করার কথা রয়েছে।

এর মধ্যে রাঙামাটি জেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে। এগুলো হলো-বাঘাইহাট-মারিশ্যা সড়কের ২০ কিলোমিটার, রাজস্থলীর বাঙ্গালহালিয়া সড়কের ১৮ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার এবং রাণীরহাট-কাউখালী সড়কের ৬ দশমিক ২০৭ কিলোমিটার অংশ।

দীর্ঘদিন ধরে এসব সড়কের বিভিন্ন অংশে প্রশস্ততা কম থাকা, সড়কের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং যানবাহন চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সড়কগুলোর মান ও প্রশস্ততা বাড়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, পর্যটন এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত সড়কগুলো প্রয়োজনীয় মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করে খুব শিগগিরই কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, রাঙামাটি জেলার উল্লেখিত সড়কগুলোসহ চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতাধীন জেলা মহাসড়কগুলো যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পটি বুধবার তৃতীয় একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পের কাজ যথারীতি শুরু হলে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।

তিনি আরও বলেন, যেসব সড়কের প্রয়োজনীয় প্রশস্ততা নেই, প্রকল্পের আওতায় সেসব সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্ত করার কাজ করা হবে। এতে মানুষের চলাচল আরও সুগম হবে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ি জেলা রাঙামাটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে উন্নত সড়ক যোগাযোগের গুরুত্ব অনেক বেশি। বিশেষ করে বাঘাইহাট-মারিশ্যা, বাঙ্গালহালিয়া এবং রাণীরহাট-কাউখালী সড়কগুলো জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব সড়ক উন্নত ও প্রশস্ত হলে দুর্গম এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, অনুমোদনের পর প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে। এতে দীর্ঘদিনের সড়ক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে এবং রাঙামাটির সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে।