...|...|...

সারাদেশ

নানিয়ারচরে ৪২ লাখ টাকার আনারস চিপস কারখানা এখন পরিত্যক্ত

উচ্চপ্রু মারমা, রাঙ্গামাটি
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৪৬
Shares
নানিয়ারচরে ৪২ লাখ টাকার আনারস চিপস কারখানা এখন পরিত্যক্ত

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে প্রায় ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আনারস চিপস তৈরির কারখানা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সরকারি অর্থায়নে নির্মাণ ও উদ্বোধনের পর কিছুদিন কার্যক্রম চললেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে কারখানাটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একদিকে সরকারি অর্থের কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না, অন্যদিকে স্থানীয় আনারস চাষি ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাস্তবায়িত হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নানিয়ারচর উপজেলায় উৎপাদিত আনারসসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করে চিপস, জুসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরির লক্ষ্যে সরকারি অর্থায়নে কারখানাটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০২০ সালের জুনের দিকে কারখানাটির উদ্বোধন করা হয়।

কারখানাটি নির্মাণের সময় স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়েছিল। তাদের প্রত্যাশা ছিল, উৎপাদনের মৌসুমে আনারসের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া কিংবা অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে ফল নষ্ট হওয়ার সমস্যা কারখানাটি চালু হলে অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি আনারস প্রক্রিয়াজাত করে চিপস ও জুসসহ বিভিন্ন পণ্য বাজারজাত করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কিন্তু উদ্বোধনের পর কিছুদিন কার্যক্রম চললেও পরবর্তীতে তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন কারখানাটি চালু না থাকায় এর যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোও অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নানিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতি মৌসুমে বিপুল পরিমাণ আনারস উৎপাদিত হয়। কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমে বাজারে একসঙ্গে প্রচুর আনারস উঠলে দাম কমে যায়। কখনো কখনো উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে আনারস বিক্রি করতে হয়। আবার বাজারজাতকরণে দেরি হলে পচনশীল এ ফল নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থায় স্থানীয়ভাবে ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা চালু হলে কৃষকরা উৎপাদিত আনারসের বিকল্প বাজার পেতেন।

নানিয়ারচর মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. নূরুল ইসলাম বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয় করে কারখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু চালু না থাকায় এটি কোনো কাজে আসছে না। নানিয়ারচরে প্রতিবছর প্রচুর আনারস উৎপাদন হয়। কারখানাটি চালু করা গেলে কৃষকরা উৎপাদিত আনারসের ভালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শুধু কারখানা নির্মাণ করলেই হবে না, সেটি নিয়মিতভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে সরকারি বিনিয়োগের সুফল সাধারণ মানুষ পাবে।

কারখানাটি বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কে নানিয়ারচর উপজেলা উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. জোবায়দুর রহমান ভাসানী বলেন, ২০২০ সালে উদ্বোধনের পর দক্ষ জনবলের অভাবে কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরই মধ্যে কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কারখানাটি পরিদর্শন করেছেন। কীভাবে এটি পুনরায় চালু করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।

স্থানীয় আনারস চাষিরা বলছেন, আনারসের মৌসুমে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় অনেক সময় তারা লোকসানের মুখে পড়েন। প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা চালু হলে আনারসের পাশাপাশি কলা ও অন্যান্য মৌসুমি ফল থেকেও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে কৃষিপণ্যের অপচয় কমার পাশাপাশি কৃষকরা উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

স্থানীয়দের মতে, কারখানাটি নির্মাণে ব্যয় করা সরকারি অর্থ যেন দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, সে জন্য দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। দক্ষ জনবল নিয়োগ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল করা, উৎপাদিত পণ্যের বাজার তৈরি এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কারখানাটি চালু করা গেলে নানিয়ারচরের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে।