...|...|...

সারাদেশ

পাহাড়-টিলা কেটে ২০০ রিসোর্ট, বৈধতার তথ্য নেই অধিকাংশের

রাজন হোসেন তৌফিক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২১
Shares
পাহাড়-টিলা কেটে ২০০ রিসোর্ট, বৈধতার তথ্য নেই অধিকাংশের

মৌলভীবাজারে পাহাড়-টিলা ও বনাঞ্চল কেটে একের পর এক গড়ে উঠছে রিসোর্ট। গত কয়েক বছরে জেলায় এমন রিসোর্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০টিতে। অথচ এর বেশিরভাগেরই অনুমোদন ও বৈধতার তথ্য নেই সরকারি দপ্তরগুলোর কাছে।

২০০৮ সালে মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা ঘোষণার পর ২০১৩ সালে শ্রীমঙ্গলে ১৩ একর জায়গাজুড়ে যাত্রা শুরু করে দেশের প্রথম পাঁচ তারকা মানের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ। এরপর কয়েক বছর নিয়মতান্ত্রিকভাবে কিছু রিসোর্ট গড়ে উঠলেও গত তিন-চার বছর ধরে চিত্র পাল্টে গেছে। বাসাবাড়ি, পাহাড়-টিলা কেটে কয়েকটি কক্ষ বানিয়েই দেওয়া হচ্ছে রিসোর্টের নাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রিসোর্ট শ্রীমঙ্গলে-প্রায় ১০৩টি। এর মধ্যে শুধু রাধানগর এলাকাতেই রয়েছে ৪০ থেকে ৪৫টি।

মূলধারার ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয়রা কয়েক শতক জমি বহিরাগতদের কাছে বিক্রি করছেন। পরে তারা একটি ঘর বা কয়েকটি কক্ষ বানিয়ে রিসোর্ট নাম দিয়ে ব্যবসা শুরু করছেন। কোনো পরামর্শ ছাড়াই গড়ে তোলা এসব প্রতিষ্ঠানে নেই সিসি ক্যামেরা, নৈশপ্রহরীও নেই। মালিক নিজেই ম্যানেজার। ভেতরে কী ঘটছে, তা কেউ জানে না। কোনো ঘটনা ঘটলে রাতারাতি নাম পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রিসোর্ট পরিচালক বলেন, আমরা সরকারের সব আইন মেনে রিসোর্ট পরিচালনা করছি। অথচ এখন বেপরোয়াভাবে রিসোর্ট গড়ে উঠছে। এগুলো কীভাবে হচ্ছে, তদারকি করা খুবই প্রয়োজন।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমদ বলেন, বেসরকারি জরিপ অনুযায়ী জেলায় প্রায় ২০০ রিসোর্ট, শুধু শ্রীমঙ্গলেই ১০০টির বেশি। প্রকৃত অর্থে রিসোর্ট বলা যায় এমন কয়েকটি মাত্র আছে। অনেকেই তিন-চারটা কক্ষ নিয়ে রিসোর্ট নাম দিয়ে চালিয়ে দিচ্ছেন। তার সংস্থার অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৬০টি রিসোর্ট।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় পরিষদের সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, পাহাড়-টিলা ও বনাঞ্চল কেটে রিসোর্ট বানানো হচ্ছে। প্রাণীদের আবাসস্থল ধ্বংস করে কেন টিলার ওপর রিসোর্ট? বৈধ না অবৈধভাবে করছেন, সরকারের কাউকে তদারকি করতে দেখিনি। সরকারের উচিত নীতিমালা তৈরি করা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাঈদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছ থেকে ৬০টি রিসোর্ট ছাড়পত্র নিয়েছে। ২০ কক্ষ বা তার অধিক রিসোর্টের ছাড়পত্র আমরা দিই। বাকিগুলো কার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছে, জানা নেই।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, পাঁচ তারকা ও তিন তারকা মানের হোটেল-রিসোর্টগুলো আমরা দেখাশোনা করি। যারা রিসোর্ট করছেন, হয়তো কোনো না কোনো বিভাগ থেকে অনুমতি নিচ্ছেন। আবার না-ও নিতে পারেন। এসব বিষয় জানা নেই।

ফলে পরিবেশ নষ্ট করে অবাধে বাড়ছে রিসোর্ট ব্যবসা, আর তদারকির অভাবে বৈধ-অবৈধের ফারাকও অস্পষ্ট হয়ে পড়ছে।