...|...|...

খুলনা

কুষ্টিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানির নিচে ৪৭১ হেক্টর আবাদি জমি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৩৬
Shares
কুষ্টিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানির নিচে ৪৭১ হেক্টর আবাদি জমি

কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে নদীর পানি বাড়ার ফলে জেলার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার পরিবারের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। একই সাথে পানির নিচে চলে গেছে ৪৭১ হেক্টর আবাদি জমি।

পানি বাড়ার সাথে সাথে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় দুর্গত মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। কোথাও ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে, কোথাও আবার সড়ক ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। গবাদিপশু নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন অনেক পরিবার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়ার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আগের দিনের তুলনায় আরও ৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ফলে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে নতুন করে পানি ঢুকছে এবং প্লাবিত এলাকার পরিধি বাড়ছে।

দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে তারা পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক পরিবারের বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। রান্না ও খাবার পানির সংকটের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়ারও সুযোগ কমে গেছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় নৌকা কিংবা অন্যান্য স্থানীয় যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কেউ কেউ পরিবার ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

বন্যার পানিতে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ, আঙিনা ও যাতায়াতের পথ তলিয়ে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের অন্তত ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা না পৌঁছানোর অভিযোগ করেছেন পানিবন্দি মানুষ। দ্রুত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ জানান, বন্যার পানিতে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ৪৭১ হেক্টর আবাদি জমি প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে আমন ধান ও পাটের অধিকাংশ কৃষক আগেই কেটে নিয়েছেন। তবে কিছু ফসল পানিতে নষ্ট হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৬ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে। দুর্গত এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দুজন মেডিকেল অফিসারকে নিয়ে একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি টিম গঠন করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে ইউএনও বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিদ্যালয়ের আঙিনা ও যাতায়াতের পথে পানি ওঠায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে স্থানীয়ভাবে কোথাও কোথাও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পানি কমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, ‘পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় পুরো এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের সুপারভাইজারদের মাধ্যমে কৃষকদের আগাম সতর্ক করার কথা ছিল। কিন্তু তারা যথাযথভাবে কৃষকদের সতর্ক করেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলা হয়েছে। কেন কৃষকদের সময়মতো সতর্ক করা হয়নি, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা আরও জানান, দলীয়ভাবে দুই ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন দুটি মূল ভূখণ্ড থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। তাই দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে দুই ইউনিয়নের সাথে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ স্থাপনে একটি সেতু নির্মাণ জরুরি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। বর্তমানে নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে দুর্গত এলাকায় বন্যার বিস্তৃতি ও মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।