...|...|...

সারাদেশ

কুমিল্লায় রাতের সড়কে নিরাপত্তার শঙ্কা, ৯ মাসে ১১১ খুন

মোশারফ হোসেন, কুমিল্লা
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৪৭
Shares
কুমিল্লায় রাতের সড়কে নিরাপত্তার শঙ্কা, ৯ মাসে ১১১ খুন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ। ছবি: টাইমস টুডে

দিনের ব্যস্ততা শেষে রাত নামলেই কুমিল্লার সড়ক-মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতকেন্দ্র থেকে রাতে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অপরিচিত চালকের অটোরিকশায় গন্তব্যে যাওয়ার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি শিক্ষার্থী জান্নাতুত তাজমিনের হত্যাকাণ্ড এ উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে নগরীর রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠেছিলেন জান্নাতুত তাজমিন। অভিযোগ রয়েছে, গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক সুমন মিয়া তাকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। পরে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সুমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

এ ঘটনার পর রাতে গণপরিবহণ থেকে নেমে বাড়ি ফেরা নারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে দূরপাল্লার বাসে কুমিল্লায় এসে গভীর রাতে নিজ গন্তব্যে যাওয়া যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধু গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নয়, মহাসড়কের সংযোগ সড়ক ও নির্জন এলাকাগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। রাতের বেলায় যাত্রী ওঠানামার স্থানগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে নিয়মিত টহল চালানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের পরিচয় ও যানবাহনের তথ্য সংরক্ষণ, অনিবন্ধিত যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার ব্যবস্থাও কার্যকর করা প্রয়োজন।

শুধু অপরাধ সংঘটনের পর অভিযান পরিচালনা নয়, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো আগেই চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সচেতন নাগরিকেরা। তাদের প্রত্যাশা, পরিবহণকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়লে রাতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে মানুষের আস্থা ফিরবে।

এদিকে, কুমিল্লা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে জেলায় ১১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যানে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে কয়েক ধরনের অপরাধের মামলার সংখ্যাও বেড়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে হত্যার মামলা ছিল ১১টি, সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬টিতে। একই সময়ে ডাকাতির মামলা দুটি থেকে বেড়ে তিনটি এবং চুরির মামলা ৩৫টি থেকে বেড়ে ৪৪টি হয়েছে। এ ছাড়া দস্যুতার মামলা হয়েছে পাঁচটি।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে।

রাতের সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন কুমিল্লার সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রত্যাশা। কার্যকর নজরদারি, নিয়মিত টহল ও দ্রুত আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে-এমনটাই চান স্থানীয় বাসিন্দারা।