...|...|...

সারাদেশ

চা বিক্রেতা আসমা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:৪২
Shares
চা বিক্রেতা আসমা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২

চা বিক্রেতা আসমা হত্যার দায়ে ২ জন গ্রেফতার। ছবি: টাইমস টুডে

দীর্ঘ ৬০ দিনের ছায়া তদন্তের পর চা বিক্রেতা আসমা বেগম (৩৯) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ইকরামুল শেখ (৪০) ও মীর আলী (৪৮) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে আসমাকে মোংলা থেকে খুলনার দাকোপে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেন তারা। গ্রেফতারের পর আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আসমার চায়ের দোকানে যাতায়াত ছিল গ্রেফতার দুজনের। এ সুবাদে তাদের মধ্যে পূর্বপরিচয় ও টাকা-পয়সার লেনদেন ছিল। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে আসমাকে মোংলা থেকে দাকোপে ডেকে নিয়ে যান তারা। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এরপরও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালানো হয়। একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ইকরামুল শেখ ও মীর আলীর অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় নিহত আসমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুই সন্তানের জননী আসমা বেগমের বাড়ি মোংলার মালগাজী এলাকায়। তিনি ফেরিঘাটসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় চায়ের দোকান চালাতেন। গত ১৪ আগস্ট দিবাগত রাতে দোকান থেকে বাড়ির উদ্দেশে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ১৬ আগস্ট মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন পরিবারের সদস্যরা।

এরপর গত ২০ আগস্ট খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কাজিবাছা নদী থেকে এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। সে সময় লাশটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে আলামত হিসেবে নাকফুল ও পরনের কাপড়ের ছবি সংরক্ষণ করে রাখে পুলিশ।

ওই ছবি ও তথ্যের সূত্র ধরে মোংলা থানা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে নিখোঁজ আসমার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার ব্যবহৃত কাপড়ের সাথে উদ্ধার হওয়া লাশের কাপড়ের মিল খুঁজে পান তদন্তকারীরা। পরে বিশেষ ধরনের নাকফুলের ছবি স্বজনদের দেখানো হলে তারা লাশটি আসমার বলে শনাক্ত করেন।

নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে পুলিশ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে ইকরামুল শেখকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় মীর আলীকে।

মংলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চালিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। প্রথমে একজনকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে নিহত আসমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।