...|...|...

বিনোদন

কিংবদন্তি ডিস্কো গায়িকা রোশেল ফ্লেমিং মারা গেছেন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১:১৩
Shares
কিংবদন্তি ডিস্কো গায়িকা রোশেল ফ্লেমিং মারা গেছেন

রোশেল ফ্লেমিং

মার্কিন সংগীতজগতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও কিংবদন্তি ডিস্কো গ্রুপ ‘ফার্স্ট চয়েস’-এর প্রতিষ্ঠাতা রোশেল ফ্লেমিং আর নেই। গত ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রোশেল ফ্লেমিংয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ম্যানেজার জর্জ ইজ কোরেইয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি যে, রোশেল ফ্লেমিং মারা গেছেন। তিনি আরএন্ডবি গ্রুপ ‘ফার্স্ট চয়েস’র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। গত ৫ নভেম্বর পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় মৃত্যু হয়েছে তার।’

তবে জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পীর মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি। তার প্রয়াণে সংগীতাঙ্গনজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ভক্ত, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা স্মরণ করছেন তার বর্ণাঢ্য সংগীতজীবন।

১৯৫০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন রোশেল ফ্লেমিং। ডিস্কো, আরএন্ডবি, ফিলাডেলফিয়া সোল এবং হাউস মিউজিকসহ বিভিন্ন ধারার সংগীতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া সোল ও ডিস্কো সংগীতের জনপ্রিয় দল ‘ফার্স্ট চয়েস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন।

স্কুলজীবন থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহ ছিল রোশেলের। ওভারব্রুক হাইস্কুলে পড়ার সময় বন্ধু অ্যানেট গেস্ট ও ওয়ার্ডেল পাইপারের সাথে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে তিন বন্ধু মিলে গড়ে তোলেন ‘দ্য ডিবোনেটস’ নামের একটি সংগীতদল। স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত পরিবেশনার মাধ্যমে পরিচিতি পেতে থাকে দলটি।

এমনই এক সময়ে ফিলাডেলফিয়ার জনপ্রিয় রেডিও ডিজে জর্জি উডসের নজরে আসেন রোশেল। তার মাধ্যমেই সংগীত প্রযোজক নরম্যান হ্যারিসের সাথে পরিচয় হয় এই শিল্পীর। পরবর্তী সময়ে ‘দ্য ডিবোনেটস’-এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ফার্স্ট চয়েস’। নতুন নামে যাত্রা শুরুর পর দ্রুতই জনপ্রিয়তা পায় দলটি।

‘দিস ইজ দ্য হাউস (হোয়্যার লাভ ডাইড)’ গানটি ছিল দলটির প্রথম একক প্রকাশনা। রেডিওতে ব্যাপক প্রচারের সুবাদে গানটি শ্রোতাদের নজর কাড়ে। এরপর ‘আর্মড অ্যান্ড এক্সট্রিমলি ডেঞ্জারাস’, ‘স্মার্টি প্যান্টস’, ‘ডক্টর লাভ’ এবং ‘লেট নো ম্যান পুট অ্যাজান্ডার’-এর মতো গান দিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যায় ফার্স্ট চয়েস।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে শক্তিশালী কণ্ঠ ও স্বতন্ত্র গায়কির মাধ্যমে অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন রোশেল ফ্লেমিং। তার মৃত্যুতে সংগীতজগত হারাল ডিস্কো ও সোল সংগীতের এক প্রভাবশালী শিল্পীকে।