...|...|...

সারাদেশ

কাজির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদাবাজি, যুবদল নেতা গ্রেফতার

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:২৭
Shares
কাজির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদাবাজি, যুবদল নেতা গ্রেফতার

গ্রেফতার যুবদল নেতা রাজিব হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মুন্সিগঞ্জে বাড়ি থেকে এক কাজিকে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে চাঁদার দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কাজি হাবিবুর রহমান (৫২) মুন্সিগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকায় বসবাস করেন। তার অভিযোগ, সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে মুক্তারপুর এলাকায় একটি কক্ষে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ২টার দিকে হাবিবুর রহমান কাটাখালী এলাকার বাসায় ছিলেন। এ সময় রাজিব হোসেন, তার বন্ধু স্বপনসহ কয়েকজন তিনটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে যান। বিয়ে পড়ানোর কথা বলে প্রথমে তাকে কাটাখালীতে তার কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে জোর করে তাকে মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা দাবি করেন অভিযুক্তরা। টাকা না দিলে কাজির লাইসেন্স বাতিল এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করেন হাবিবুর রহমান।

ভয়ে টাকা দিতে রাজি হলে তাকে মুন্সিগঞ্জ কাঁচারিবাজারের অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা তোলা হয়। পরে তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে ওই টাকা আসামিদের হাতে তুলে দেওয়া হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

রাত ১০টার দিকে বিষয়টি জানতে পারেন হাবিবুর রহমানের ছেলে নাহিদ হাসান। তিনি পরে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানকে ঘটনা জানান। তার পরামর্শে বাবাকে সাথে নিয়ে থানায় যান নাহিদ।

পরে রাজিব হোসেন থানায় এসে দুই লাখ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে জানান নাহিদ। পুলিশের সহযোগিতায় পরে ওই টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় রাত ১২টার দিকে রাজিব হোসেনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন হাবিবুর রহমান।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তসলিম উদ্দিন জানান, ভুক্তভোগী কাজি বাদী হয়ে মামলা করেছেন। চাঁদার দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে রাজিবসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের পর রাজিব হোসেনকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে রাজিব হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।