...|...|...

জাতীয়

কাগজে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ, কন্টেইনারে মিলল আস্ত বিএমডব্লিউ-৫ ইসুজু ট্রাক

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:২৯ | আপডেট: ৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৩৮
Shares
কাগজে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ, কন্টেইনারে মিলল আস্ত বিএমডব্লিউ-৫ ইসুজু ট্রাক

চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা একটি চালান থেকে বিএমডব্লিউ স্পোর্টস বা রেসিং কার, বিএমডব্লিউ ৭৪০আই এর সামনের অর্ধাংশ এবং পাঁচটি হাফ-কাট ইসুজু ট্রাকের সন্ধান পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। ঘোষিত পণ্যের সাথে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি থাকায় চালানটি আটক করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইআইডি জানায়, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্দেহজনক মনে হওয়ায় চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়। এতে ঘোষণার সাথে পণ্যের প্রকৃতি ও অবস্থায় বড় ধরনের গড়মিল ধরা পড়ে।

চালানটি আমদানি করেছে চট্টগ্রামের হালিশহরে অবস্থিত মেসার্স আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল। রপ্তানিকারক হিসেবে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি এলএলসি’। চালানটির সিএন্ডএফ এজেন্ট আমিন (সিএন্ডএফ এজেন্ট) প্রাইভেট লিমিটেড।

কায়িক পরীক্ষার শুরুতেই সম্পূর্ণ খোলা বা সিকেডি অবস্থায় একটি দুই আসনের বিএমডব্লিউ স্পোর্টস বা রেসিং কার পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে গাড়িটির মডেল এস ড্রাইভ ২৩আই বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি।

তবে গাড়িটির সঠিক মডেল ইয়ার, চেসিস বা ভেহিকল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ভিআইএন) এবং বাংলাদেশে আমদানির বৈধতা কারিগরি পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

চালানটিতে ২০১৬ মডেলের একটি বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির সামনের অর্ধাংশও পাওয়া যায়। গাড়িটির ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার সিসি।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে সবচেয়ে সন্দেহজনক বিষয় হয়ে উঠেছে গাড়িটির শুধু সামনের অংশ পাওয়া। এর বাকি অংশ অন্য কোনো চালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে কি না, অথবা পরবর্তী কোনো চালানে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কাস্টমস গোয়েন্দারা মনে করছেন, কাটা বা খণ্ডিত গাড়ির বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদা চালানে এনে পরে পুনঃসংযোজনের কোনো কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিএমডব্লিউ দুটি গাড়ির পাশাপাশি চালানটি থেকে পাঁচটি হাফ-কাট ইসুজু ট্রাকও পাওয়া গেছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাকগুলোর কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির যন্ত্রাংশ প্যাক করে রাখা হয়েছিল। এছাড়া চালানটিতে আরও বিভিন্ন ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে।

চালানটি ‘ব্যবহৃত ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি’, ‘ব্যবহৃত পাওয়ার স্টিয়ারিং অ্যাসেম্বলি’সহ বিভিন্ন ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

ঘোষিত পণ্য ও বাস্তবে পাওয়া পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকায় অসত্য ঘোষণা, শুল্ক-কর ফাঁকি এবং আমদানি নীতিমালা লঙ্ঘনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

বিশেষ করে কাটা বা খণ্ডিত গাড়ির বিভিন্ন অংশ আলাদা চালানে আমদানি করে পরে সেগুলো জোড়া লাগানোর কোনো কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। একইসাথে বিএমডব্লিউ ৭৪০আই-এর বাকি অংশ কোথায় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো চালান রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা গাড়িগুলোর চেসিস ও ভিআইএন নম্বর, ইঞ্জিনের তথ্য এবং প্রকৃত মূল্য যাচাই করছেন। পাশাপাশি প্রযোজ্য আমদানি নীতি, শুল্ক ও করের পরিমাণও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এসব যাচাই শেষে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

এ ধরনের মিথ্যা ঘোষণায় সম্পূর্ণ গাড়ি বা গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমদানির ঘটনা শনাক্তে চট্টগ্রাম বন্দরে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।