রাগ, অভিমান কিংবা আবেগের মুহূর্তে অনেকেই কোনো কাজ করা বা না করার বিষয়ে কসম করে ফেলেন। কিন্তু সময়ের সাথে পরিস্থিতি বদলে গেলে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো ব্যক্তিগত প্রয়োজন, আবার কখনো বিশেষ পরিস্থিতির কারণে কসম ভাঙতে হয়। এমন অবস্থায় ইসলামের বিধান কী এবং কসম ভাঙলে কী করণীয়, তা জানা প্রয়োজন।
ইসলামে ইচ্ছাকৃতভাবে করা কসম ভঙ্গের ক্ষেত্রে কাফফারা আদায়ের নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে বিস্তারিত বিধান দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য পাকড়াও করবেন না। কিন্তু তোমরা যে শপথ পরিপক্বভাবে করে থাকো, সেজন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন। সুতরাং তার কাফফারা হলো, দশজন মিসকিনকে মধ্যম ধরনের খাবার দেবে, যা তোমরা তোমাদের পরিবারবর্গকে খাইয়ে থাকো। অথবা তাদের বস্ত্র দান করবে কিংবা একজন গোলাম আজাদ করবে। তবে কারও কাছে যদি (এসব জিনিসের মধ্য হতে কিছুই) না থাকে, সে তিন দিন রোজা রাখবে। এটা তোমাদের শপথের কাফফারা, যখন তোমরা শপথ করবে (এবং তারপর তা ভেঙে ফেলবে)। তোমরা নিজেদের শপথকে রক্ষা করো। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের সামনে নিজ আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা আদায় করো।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৮৯)
কসম ভাঙলে যেভাবে কাফফারা আদায় করবেন
এ বিষয়ে রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, কোনো ব্যক্তি কসম করার পর তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে তাকে এর কাফফারা আদায় করতে হবে।
কাফফারা আদায়ের জন্য তিনটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো একটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। সেগুলো হলো
১. দশজন দরিদ্রকে খাবার খাওয়ানো: নিজের পরিবারের সদস্যদের সাধারণত যে মানের খাবার খাওয়ানো হয়, সে অনুযায়ী দশজন মিসকিনকে দুই বেলা খাবার দিতে হবে।
২. দশজন দরিদ্রকে পোশাক দেওয়া: প্রত্যেক মিসকিনকে পরিধানযোগ্য পোশাক দিতে হবে।
৩. তিন দিন রোজা রাখা: খাবার খাওয়ানো বা পোশাক দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলে তিন দিন রোজা রাখতে হবে।
অর্থাৎ, প্রথম দুটি পদ্ধতির কোনোটি করার সামর্থ্য না থাকলেই তৃতীয় পদ্ধতি হিসেবে রোজা রাখার বিধান প্রযোজ্য হবে।
রাগের সময় কসম করা থেকে বিরত থাকুন
ইসলামে রাগ নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ, আবেগের মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক সময় পরবর্তী সময়ে অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই রাগ বা অভিমানের বশে কোনো বিষয়ে কসম করার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি।
এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রকৃত বীর সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে পরাজিত করে; বরং প্রকৃত বীর সেই ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি: ৫৭৬৩, সহিহ মুসলিম: ২৬০৯)
তাই কোনো বিষয়ে কসম করার আগে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আর কোনো বৈধ কারণে কসম ভঙ্গ হয়ে গেলে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী কাফফারা আদায় করতে হবে।


