...|...|...

ধর্ম

দিনে মাত্র পনেরো মিনিট

শায়খ উসামা যে আমলের পরামর্শ দেন রিজিকের দরজা খোলার জন্য

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, রাত ৯:২১
Shares
শায়খ উসামা যে আমলের পরামর্শ দেন রিজিকের দরজা খোলার জন্য

শায়খ উসামা আল-শুরাফা। ছবি: সংগৃহীত

একজন মানুষের কথা ভাবুন, যাঁর আগের ও পরের সব গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। জান্নাত যাঁর জন্য নিশ্চিত, যিনি সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে প্রিয় বান্দা। এমন মানুষের কি আর ক্ষমা চাওয়ার দরকার আছে? অথচ তিনি নিজে কসম খেয়ে বলেছেন, তিনি প্রতিদিন সত্তর বারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। তিনি আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাহলে আমাদের মতো গুনাহগার মানুষের প্রয়োজন কতটুকু — সেটা কি আর বলে দিতে হয়?

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন —

وَاللَّهِ إِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً

উচ্চারণ: ওয়াল্লাহি ইন্নি লাআসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি ফিল ইয়াওমি আকসারা মিন সাবঈনা মাররাহ।

অর্থ: আল্লাহর কসম, আমি দিনে সত্তর বারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর দিকে ফিরে আসি। (সহিহ বুখারি: ৬৩০৭)

এই হাদিসের প্রতিটি শব্দ খেয়াল করুন। নবীজি কথাটা শুরু করেছেন "ওয়াল্লাহি" দিয়ে — কসম খেয়ে। তারপর "ইন্নি" আর "লা" — আরবি ভাষার দুটো জোর দেওয়ার শব্দ একসাথে। অর্থাৎ তিনি চেয়েছেন উম্মত যেন এই কথাটাকে হালকাভাবে না নেয়। এরপর দুটো আলাদা কাজের কথা এসেছে — "আসতাগফিরুল্লাহ" মানে অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া, আর "আতুবু ইলাইহি" মানে ভবিষ্যতের জন্য আল্লাহর দিকে ফিরে আসার অঙ্গীকার। শুধু মুখে উচ্চারণ নয়, অন্তরের দিক বদলানো। আর "আকসারা মিন সাবঈন" — সত্তরের বেশি। আরবিতে সত্তর অনেক সময় অগণিত বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ ইস্তিগফার নবীজির দিনের একটা নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো ছিল।

শায়খ উসামা আল-শুরাফা রিজিকের ম্যানুয়ালের দশম অধ্যায়ে ইস্তিগফারকে বলেছেন ভবিষ্যতের রিজিকের দরজা খোলার চাবি। তাঁর ভাষায়, শুকর হলো অতীত ও বর্তমানের নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা, আর ইস্তিগফার হলো আগামীর দরজা খোলা — এই দুটো যখন একসাথে কাজ করে, তখন বান্দার জীবনে বারাকাহর অফুরন্ত প্রবাহ শুরু হয়। শায়খ তাঁর কোর্সে প্রতিদিন তিনশো বার ইস্তিগফারের অভ্যাস গড়ার পরামর্শ দেন। শুনতে অনেক মনে হলেও তিন বেলায় ভাগ করলে প্রতিবার লাগে মাত্র পাঁচ থেকে সাত মিনিট। কোনো মূলধন লাগে না, কোনো যোগ্যতা লাগে না — শুধু একটা বিনম্র হৃদয় লাগে।

আজকের জীবনে চল্লিশ দিনের একটা চ্যালেঞ্জ নিন। ফজরের পর একশো, যোহরের আগে একশো, মাগরিবের পর একশো বার ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ বলুন। শুরুতেই তিনশো কঠিন মনে হলে শায়খের পরামর্শ মেনে প্রথম সপ্তাহে প্রতি বেলায় পঞ্চাশ দিয়ে শুরু করুন, তারপর ধাপে ধাপে বাড়ান। অফিসে যাওয়ার পথে বাসে বা রিকশায় বসে, জ্যামে আটকে থাকার সময়েও এটা করা যায়। ফোনের তাসবিহ কাউন্টার সাহায্য করতে পারে, তবে আসল গণনা চলবে জিহ্বায় আর অন্তরে। সংখ্যার চেয়েও বড় কথা ধারাবাহিকতা — একটা দিনও বাদ দেবেন না। চল্লিশ দিন পর নিজেই মিলিয়ে দেখুন — অন্তরের অস্থিরতায়, কাজের প্রবাহে আর রিজিকের বারাকাহয় কোনো পরিবর্তন এসেছে কিনা।

ইস্তিগফার ও শুকরের এই দুই চাবি, সদকায়ে জারিয়া আর মৃত্যুর পরও আমলনামা সমৃদ্ধ রাখার পূর্ণ পথনির্দেশ — শায়খ উসামা আল-শুরাফার বিস্তারিত আলোচনা পাবেন রিজিকের ম্যানুয়ালের দশম অধ্যায়ে।

-সংগৃহীত