কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী কিংবা ঊর্ধ্বতন কেউ হঠাৎ আপনাকে এড়িয়ে চলছেন- এমন অনুভূতি কখনো কখনো তৈরি হতে পারে। আপনার কথার উত্তর দিচ্ছেন না, আলোচনায় গুরুত্ব দিচ্ছেন না কিংবা আপনার উপস্থিতি উপেক্ষা করছেন। এমন আচরণে মন খারাপ হওয়া বা অস্বস্তি বোধ করা স্বাভাবিক। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে আবেগের বশবর্তী না হয়ে ধৈর্য ও কৌশলের সঙ্গে এগোনো জরুরি।
কর্মক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে পারেন।
শুরুতেই ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না
কেউ আপনাকে এড়িয়ে চলছেন মনে হলেই ধরে নেবেন না যে তিনি ইচ্ছা করেই এমন করছেন। অতিরিক্ত কাজের চাপ, ডেডলাইন কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে অনেকেই সাময়িকভাবে অন্যমনস্ক বা চুপচাপ থাকতে পারেন। তাই তাৎক্ষণিকভাবে নেতিবাচক সিদ্ধান্তে না পৌঁছে কিছুদিন তার আচরণ পর্যবেক্ষণ করুন।
পাশাপাশি নিজের দিকটিও নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করুন। সম্প্রতি কোনো কথা বা কাজের কারণে আপনাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও ভেবে দেখুন।
প্রয়োজন হলে সরাসরি কথা বলুন
বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে এবং আপনার কাজ বা স্বাভাবিক যোগাযোগে প্রভাব ফেললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলুন। তবে সবার সামনে নয়, উপযুক্ত সময়ে একান্তে কথা বলাই ভালো।
অভিযোগের সুরে কথা না বলে স্বাভাবিকভাবে জানতে চান, কাজের বিষয়ে কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে কি না। আপনার কোনো আচরণে তিনি কষ্ট পেয়ে থাকলে সেটিও জানার চেষ্টা করুন। অনেক সময় খোলামেলা ও আন্তরিক আলোচনায় অস্বস্তি দূর হয়ে যায়।
যোগাযোগে পেশাদারত্ব বজায় রাখুন
কথা বলার পরও যদি পরিস্থিতির পরিবর্তন না হয়, তাহলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে পেশাদারত্ব বজায় রাখুন। কাজের প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা স্পষ্টভাবে জানতে চান। মৌখিকভাবে সাড়া না পেলে ইমেইল বা অফিসের নির্ধারিত মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুন।
এতে কাজের অগ্রগতি ও যোগাযোগের লিখিত রেকর্ড থাকবে। কারও অসহযোগিতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে গেলে ব্যক্তিগত তর্কে না জড়িয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্যসহ বিষয়টি রিপোর্টিং ম্যানেজারকে জানান।
নিজের কাজ ও মানসিক শান্তিকে গুরুত্ব দিন
অন্যের আচরণ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করতে গিয়ে নিজের কাজের ক্ষতি করবেন না। দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন, কাজের মান বজায় রাখুন এবং দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করুন। পাশাপাশি অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে স্বাভাবিক ও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখুন।
কেউ আপনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ করার প্রয়োজন নেই। আপনার কাজের ফলাফল, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদার আচরণই কর্মক্ষেত্রে আপনার অবস্থান তৈরি করবে।
সবার কাছ থেকে বন্ধুত্ব প্রত্যাশা করবেন না
কর্মক্ষেত্রে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সহকর্মীদের ব্যক্তিত্ব, চিন্তাভাবনা ও কাজের ধরনও এক রকম নয়। তাই সবার কাছ থেকে সমান আন্তরিকতা প্রত্যাশা না করে পারস্পরিক সম্মান ও পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখুন।
মনে রাখবেন, অন্যের আচরণ আপনার যোগ্যতার চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়। কেউ আপনাকে এড়িয়ে চলছেন- এ কারণে নিজের আত্মবিশ্বাস হারাবেন না। বরং পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন এবং নিজের লক্ষ্য ও কাজের প্রতি মনোযোগী থাকুন।


