...|...|...

তথ্যপ্রযুক্তি

কত বছর পর বদলাবেন স্মার্টফোন?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ২:০৩ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:০৬
Shares
কত বছর পর বদলাবেন স্মার্টফোন?

ছবি: এআই জেনারেটেড

আমরা প্রায় সবাই একটা প্রশ্নে দ্বিধায় পড়ি - ‘আমার ফোনটা কি এখনো ব্যবহার করা যাবে, নাকি বদলে ফেলা উচিত?' ফোনের স্ক্রিনে হয়তো তেমন কোনো সমস্যা নেই, ক্যামেরাও ঠিকঠাক কাজ করছে, কিন্তু ব্যাটারি দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, অ্যাপ খুলতে দেরি হচ্ছে, বা নতুন আপডেট ইনস্টল হচ্ছে না- এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

চলুন জেনে নেয়া যাক, একটি স্মার্টফোন আসলে কতদিন ব্যবহার করা যায়-

গড় হিসেবে একটি স্মার্টফোন কতদিন টেকে?

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার তথ্য একটু আলাদা আলাদা হলেও, একটা সাধারণ প্যাটার্ন স্পষ্ট:

  • পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান Statista-র তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ব্যবহারকারীরা গড়ে প্রায় আড়াই বছর (২.৫ বছরের কাছাকাছি) পর ফোন বদলান।
  • বৈশ্বিকভাবে গড় ‘রিপ্লেসমেন্ট সাইকেল’ (একজন ব্যবহারকারী কতদিন পর ফোন বদলান) প্রায় ২.৪ থেকে ৩ বছরের মধ্যে ঘোরাফেরা করে।
  • তবে এটা হলো মানুষ ‘কতদিন পর নতুন ফোন কেনে’ তার হিসাব - ফোনটা আসলে ‘কতদিন কাজ করতে সক্ষম’ সেটা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। হার্ডওয়্যারের দিক থেকে একটা স্মার্টফোন সাধারণত ৫ থেকে ৮ বছর পর্যন্ত সচল থাকতে পারে, আর ভালোমানের ফোন ব্যাটারি বদলে ও মাঝেমধ্যে মেরামত করে ১০ বছর পর্যন্তও চালানো সম্ভব।

অর্থাৎ, ‘ফোন নষ্ট হয়ে যাওয়া’ আর ‘ফোন বদলে ফেলা’- এই দুটো ঘটনা প্রায়ই আলাদা সময়ে ঘটে। বেশিরভাগ মানুষ ফোন সম্পূর্ণ অচল হওয়ার অনেক আগেই নতুন ফোন কিনে ফেলেন।

ব্র্যান্ড অনুযায়ী স্মার্টফোনের আয়ু

  • আইফোন (Apple): গড় ব্যবহারযোগ্যতার মেয়াদ (৪–১০) বছর - সফটওয়্যার সাপোর্ট (৫-৭) বছর (কিছু মডেলে আরও বেশি)।
  • স্যামসাং (ফ্ল্যাগশিপ): গড় ব্যবহারযোগ্যতার মেয়াদ (৩–৬) বছর - সফটওয়্যার সাপোর্ট সাম্প্রতিক ফ্ল্যাগশিপে প্রায় ৭ বছর। 
  • গুগল পিক্সেল (উচ্চমানের): গড় ব্যবহারযোগ্যতার মেয়াদ (৩–৬) বছর - সফটওয়্যার সাপোর্ট সাম্প্রতিক মডেলে প্রায় ৭ বছর। 
  • বাজেট/এন্ট্রি-লেভেল ব্র্যান্ড: গড় ব্যবহারযোগ্যতার মেয়াদ (২–৩) বছর - সফটওয়্যার সাপোর্ট সাধারণত (২–৩) বছর বা কম।

আইফোন সাধারণত সবচেয়ে বেশিদিন সচল থাকে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর একটি বড় কারণ হলো Apple দীর্ঘ সময় ধরে সফটওয়্যার আপডেট দেয়, যা ফোনের নিরাপত্তা ও পারফরম্যান্স বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ভোক্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান CIRP- এর তথ্য অনুযায়ী, বড় একটা অংশ আইফোন ব্যবহারকারী দুই বছরের বেশি সময় ধরে তাদের আগের ফোনটি ব্যবহার করে থাকেন, যেখানে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এই হার কিছুটা কম।

কোন কোন বিষয় ফোনের আয়ু নির্ধারণ করে?

গবেষণায় মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে:

১. ব্যাটারির স্বাস্থ্য

স্মার্টফোনে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি সাধারণত প্রায় ৫০০ বার সম্পূর্ণ চার্জ-সাইকেলের পর তার মূল ক্ষমতার প্রায় ৮০ শতাংশে নেমে আসে। এটি স্বাভাবিক ব্যবহারে সাধারণত ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে ঘটে থাকে। ব্যাটারি দুর্বল হয়ে গেলে ফোন দ্রুত চার্জ ফুরায় এবং কর্মক্ষমতাও কমে যায়- এটাই ফোন বদলের অন্যতম প্রধান কারণ।

২. সফটওয়্যার আপডেট

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কতদিন পর্যন্ত নিরাপত্তা ও অপারেটিং সিস্টেম আপডেট দিচ্ছে, তার উপর ফোনের কার্যকর আয়ু অনেকাংশে নির্ভর করে। আপডেট বন্ধ হয়ে গেলে ফোনটি নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়ে এবং নতুন অ্যাপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

৩. হার্ডওয়্যার মান ও মেরামতযোগ্যতা

স্ক্রিনের মান, বডির উপাদান (যেমন অ্যালুমিনিয়াম, স্টেইনলেস স্টিল, গরিলা গ্লাস), পানি-প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং যন্ত্রাংশ সহজলভ্য কিনা- এসব বিষয়ও ফোনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারযোগ্যতায় প্রভাব ফেলে।

একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো- ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘রাইট টু রিপেয়ার’ নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৬ সাল থেকে ইউরোপে বিক্রি হওয়া স্মার্টফোন নির্মাতাদের কমপক্ষে ৫ বছর নিরাপত্তা আপডেট এবং ৫-৭ বছর যন্ত্রাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যা ফোনের বাস্তব ব্যবহারযোগ্য মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দেবে।

ফোনের আয়ু বাড়ানোর ব্যবহারিক উপায়

  • অতিরিক্ত চার্জ এড়িয়ে চলুন: সবসময় শতভাগ চার্জ বা একেবারে শূন্যে নামিয়ে ব্যবহার না করে ২০–৮০ শতাংশের মধ্যে চার্জ রাখার চেষ্টা করলে ব্যাটারির আয়ু দীর্ঘ হয়।
  • মানসম্মত কভার ও স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করুন: এতে হঠাৎ পড়ে যাওয়া বা আঘাত থেকে স্ক্রিন ও বডি সুরক্ষিত থাকে।
  • নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করুন: এতে নিরাপত্তা ও পারফরম্যান্স দুটোই ভালো থাকে।
    অতিরিক্ত গরম বা রোদে ফোন না রাখা: অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির ক্ষয় দ্রুত করে।
  • প্রয়োজনে ব্যাটারি বদলে ফেলুন: ফ্ল্যাগশিপ ফোনের ক্ষেত্রে একবার ব্যাটারি বদলালে ফোনটি আরও ৩–৪ বছর ভালোভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

কখন ফোন বদলানো উচিত?

সাধারণত নিচের যেকোনো একাধিক লক্ষণ দেখা দিলে ফোন বদলানোর কথা ভাবা যেতে পারে:

  • ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং সারাদিন টেকে না।
  • নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যার ও নিরাপত্তা আপডেট দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
  • নতুন অ্যাপ বা আপডেট ফোনে ইনস্টল করা যাচ্ছে না বা চালালে হ্যাং করছে।
  • স্ক্রিন বা বডিতে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে যা মেরামতে খরচ নতুন ফোনের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে।

গড় হিসেবে বেশিরভাগ মানুষ ২.৫ থেকে ৩ বছরের মধ্যে ফোন বদলান, কিন্তু ভালো মানের ফোন যত্ন নিয়ে ব্যবহার করলে এবং প্রয়োজনে ব্যাটারি বদলে নিলে ৫ থেকে ৮ বছর, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ১০ বছর পর্যন্তও সচল রাখা সম্ভব।

তাই ‘ফোন কত বছর চলবে’ এর উত্তর নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়- এটা নির্ভর করে ব্র্যান্ড, ব্যবহারের ধরন, এবং যত্নের উপর।

তথ্যসূত্র:

Statista, BankMyCell, RefurbMe, RepairScore, Consumer Intelligence Research Partners (CIRP), এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিবেদন (২০২৪–২০২৬)।