...|...|...

বিশ্ব

ককরোচদের ঠেকাতে এবার ‘লাল হিটের’ আত্মপ্রকাশ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:২৩ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:২৫
Shares
ককরোচদের ঠেকাতে এবার ‘লাল হিটের’ আত্মপ্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর বিক্ষোভের বিরোধিতা করে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন একটি গোষ্ঠী। ‘লাল হিট জনতা পার্টি’ নামের এই গোষ্ঠীটির প্রথম সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে রবিবার (১৮ অক্টোবর) দিল্লির মালব্য স্মৃতি ভবনে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, তাদের মূল লক্ষ্য, সিজেপির আন্দোলনের বিরোধিতা করা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা অটুট রাখা।

সিজেপি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কনট প্লেসসহ দিল্লির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছে। এর পাল্টা অবস্থান নিয়ে লাল হিট জনতা পার্টির প্রধান অয়ন ভাটনগর ও অন্য বক্তারা সিজেপি, কংগ্রেস এবং বিক্ষোভকারীদের সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, এসব বিক্ষোভ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি করছে।

সমাবেশে অয়ন ভাটনগর বলেন, অল্প সময়ের নোটিশেও বিপুলসংখ্যক মানুষকে একত্রিত করা সম্ভব—এটি দেখানোই ছিল সভার অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আহ্বান জানালে আরও বেশি মানুষ সমবেত হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দশেরাকে অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষকে রাজপথে নামার আহ্বান জানান ভাটনগর।

বিক্ষোভকারীদের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি তাঁদের ‘কীটপতঙ্গ’ ও ‘তেলাপোকা’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, উৎসবের মৌসুমে কনট প্লেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় বিক্ষোভের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে।

ভাটনগর প্রশ্ন তোলেন, বিক্ষোভের মাধ্যমে কীভাবে সরকার পরিবর্তন সম্ভব? তাঁর মতে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি এবং নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া ও পূর্ববর্তী কমিশনারদের কার্যকাল সম্পর্কে না জেনে এমন দাবি তোলা উচিত নয়।

লাল হিট জনতা পার্টির প্রধানের অভিযোগ, সিজেপি কংগ্রেস ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সমর্থন পাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য বিজেপি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সমাবেশে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন ভাটনগর। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অবিশ্বাস তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। দশেরার দিন থেকেই সিজেপির পতনের সূচনা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কত্থক নৃত্যশিল্পী রিচা গুপ্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, সাংবাদিক পবন দাবি করেন, সিজেপির আন্দোলনের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিমধ্যে তিন হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো হিসাব বা প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

ভাটনগর জানান, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত কিছু মানুষও তাঁদের গোষ্ঠীকে সমর্থন করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরে এসে রাজপথে সক্রিয় হওয়া এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানান তাঁরা।