...|...|...

সারাদেশ

ওসির সাথে রুমিন ফারহানার বাগবিতণ্ডার ঘটনায় পুলিশের জিডি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:৫৫ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:০৩
Shares
ওসির সাথে রুমিন ফারহানার বাগবিতণ্ডার ঘটনায় পুলিশের জিডি

থানায় ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাগবিতণ্ডার মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার কক্ষে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাগবিতণ্ডার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানায় এ জিডি করা হয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি কোনো অভিযোগ নয়; ঘটনার বিবরণ নথিভুক্ত রাখতেই জিডি করা হয়েছে।

সরাইল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই দিনের ঘটনা উল্লেখ করে একটি জিডি করা হয়েছে। এটি কোনো অভিযোগ নয়। যেকোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলেই আমরা জিডি করে রাখি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সরাইল থানায় ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার কক্ষে গিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা চেয়েও তা পাননি বলে অভিযোগ করেন রুমিন ফারহানা। এ ছাড়া ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে তিনি থানায় যান। রাত ৮টার দিকে থানায় প্রবেশের পর রাত ৯টা পর্যন্ত ওসির কক্ষে অবস্থান করেন তিনি।

এ সময় রুমিন ফারহানার সাথে যাওয়া এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ওসি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন ওসি। তার দাবি, ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় নিয়ে এসেছেন রুমিন ফারহানা।

কথোপকথনের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে বলেন, আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।

জবাবে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, আপনি তো আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন। তাদের ধরতে গেলে নিষেধ করেন। আমার কাছে লিস্ট আছে। আপনি রাজ্জিকে ধরতে নিষেধ করেছেন।

এর উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জি) তো আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত।

এদিকে, সংসদ সদস্যের থানায় যাওয়ার বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা তৈরি করেন। কিছু লোককে শিখিয়ে এনেছেন আজেবাজে কথা বলার জন্য। উনি বলেছেন আমি ইটভাটা থেকে টাকা নিই, অথচ হাওরের সব ইটভাটা এখন পানির নিচে। আমরা পূজায় পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে ওনার সঙ্গে পুলিশের একটি টিম রাখা ওই সময় কঠিন ছিল।

অন্যদিকে, নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন- ওসি আমাকে বলেন, আপনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে। এজন্যই মানুষ যা দেখছেন, ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে। আর ওনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটা থেকে পয়সা নেওয়া, ইটের ভাটা থেকে পয়সা নেওয়াসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এলাকাটা দাঙ্গাপ্রবণ। দাঙ্গা হওয়ার পরে যখন সব শান্ত হয়, তখন ওনারা যান। এ বিষয়গুলোই আমি জানতে এসেছিলাম। উনি যে ব্যবহার আমার সঙ্গে করেছেন, সেটা একজন নির্বাচিত এমপির সঙ্গে যায় না।