স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়েছে জাতিসংঘ। ফলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি তালিকা থেকে বের হবে বাংলাদেশ। একই সময়সীমা পেয়েছে নেপালও।
নিউইয়র্ক সময় বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক প্লেনারি সভায় এ বিষয়ে উত্থাপিত প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলো।
‘গ্রুপ অব ৭৭’ ও চীনের পক্ষে বাংলাদেশ ও নেপালের উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন উরুগুয়ের প্রতিনিধি। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো দেশ বিরোধিতা করেনি। তবে ফ্রান্স, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের ও নেপালের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বক্তব্য দেন। একইসাথে বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে জাতিসংঘকে চিঠি দেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।
এরপর ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে এ বিষয়ে ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা গত ২ জুন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় অর্থ মন্ত্রণালয়।
পরবর্তী সময়ে গত ২১ জুলাই বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাসের মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৮ সালে। প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালে চূড়ান্ত উত্তরণের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত দুই বছর সময় পায় দেশটি। সে অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা ছিল।
এবার আরও তিন বছর সময় বাড়ানোয় ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্বল্পোন্নত দেশের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে পারবে বাংলাদেশ।
স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত রফতানি সুবিধা পাচ্ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এসব সুবিধার অনেকগুলো হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া উত্তরণের পর তৈরি পোশাক ও ওষুধশিল্পের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, রফতানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার প্রস্তুতির জন্য বাড়তি সময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ আগামী তিন বছর এলডিসি হিসেবে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা ধরে রেখে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ ও নেপাল স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যুক্ত হবে।


