জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক (এসডিজি) উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামে জলবায়ু সহনশীলতা, পানি নিরাপত্তা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনভিত্তিক শিল্পায়নের ওপর জোর দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আবদুল আউয়াল।
ফোরামে তিনি জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে জানান, দেশের সেচব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধার এবং গ্রামীণ ও শহুরে জনগণের জন্য নিরাপদ পানীয়জল নিশ্চিত করতে সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেই সাথে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পসহ আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এসডিজি-৯ বিষয়ক একটি অধিবেশনে তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকা বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশলের মূল ভিত্তি হিসেবে সহনশীল অবকাঠামো, টেকসই শিল্পায়ন এবং উদ্ভাবনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিনিয়োগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সুযোগে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের কৃষি, জৈবপ্রযুক্তি, ওষুধশিল্প, চামড়াশিল্প এবং ডিজিটাল ও সৃজনশীল শিল্পখাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
ড. আউয়াল আরও বলেন, সাম্প্রতিক অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে যে স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ এখন বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনেক বেশি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার গৃহীত এসব নানামুখী উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং একটি সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

