...|...|...

অর্থনীতি

এলডিসি উত্তরণে বাড়তি তিন বছর পেতে ইতিবাচক ফলের আশা: বাণিজ্যমন্ত্রী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৩৯ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪৭
Shares
এলডিসি উত্তরণে বাড়তি তিন বছর পেতে ইতিবাচক ফলের আশা: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর বিষয়ে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এ বিষয়ে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) ও ইআরএফের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মোটামুটি সর্বসম্মত অবস্থান তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো মনে করছে, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ আরও তিন বছর সময় পাওয়ার যোগ্য।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, অক্টোবরের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) প্রক্রিয়ার আওতায় চূড়ান্ত সময়সীমার আগেই বিষয়টির নিষ্পত্তি সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে ২৪ নভেম্বর চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত তিন বছরের প্রস্তুতিকাল পাওয়া গেলে সেই সময় কীভাবে কাজে লাগানো হবে, সে বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর যেন বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি না হয়, সে জন্য টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত আট থেকে দশটি দেশের সাথে বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাপানের সাথে ইতিমধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে চুক্তি করার উদ্যোগ রয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সাথে আলোচনা সম্পন্ন করার আশাও প্রকাশ করেন তিনি।

এ ছাড়া ওমান, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের সাথে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপের (আরসেপ) সাথে সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইইউর সাথে আলোচনার জন্য ইতিমধ্যে আলোচক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন প্রথম ধাপের কারিগরি আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি চলছে। আলোচনার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের আগেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

আরসেপের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ তিনটি দেশের সদস্যপদ গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং বিস্তারিত কার্যক্রম চলছে।

মন্ত্রী বলেন, ২০২৯ সালে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের আগেই আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য ও সেবা রফতানি এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এ উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক সক্ষমতা ধরে রাখা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

বক্তব্যে বিগত সরকারের সময় এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে সমালোচনা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তখন উত্তরণকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও এর পরবর্তী সুবিধা ও অসুবিধাগুলো মোকাবিলার প্রস্তুতির দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়নি।

তার মতে, শুধু এলডিসি থেকে উত্তরণের লক্ষ্য অর্জন করাই যথেষ্ট নয়; উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষার জন্য কার্যকর প্রস্তুতি প্রয়োজন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মোস্তফা আবিদ খান। এতে বলা হয়, গত কয়েক দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনের প্রতিফলন হলো এলডিসি উত্তরণ।

তবে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে যেসব আন্তর্জাতিক সহায়তামূলক সুবিধা ভোগ করছে, সেগুলোর বেশ কয়েকটি পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার হতে পারে। এসব সুবিধা দেশের রফতানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি এবং কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা। এতে বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।