২০২১ সালে এক জুম কলে একসাথে প্রায় ৯০০ কর্মী ছাঁটাই করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা বিশাল গার্গ। প্রায় পাঁচ বছর পর এবার নিজেই হারালেন চাকরি।
সম্প্রতি অনলাইন মর্টগেজ কোম্পানি বেটার হোম এন্ড ফাইন্যান্সের সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় গার্গকে। তার জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন হেজ ফান্ড ম্যানেজার ড্যানিয়েল লুইস। এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
তবে চুপচাপ বসে নেই গার্গ। তার দাবি, কৌশলে তাকে সরিয়ে বোর্ডের আস্থা অর্জন করেছেন লুইস। গার্গের ভাষ্যমতে, প্রায় ছয় মাস আগে লুইস তার সাথে যোগাযোগ করে কোম্পানির খরচ কমানো ও লাভজনক করার নানা পরামর্শ দিয়েছিলেন।
এরপর তাকে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে নেওয়া হয়, আর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই অন্য পরিচালকদের রাজি করান গার্গকে সিইও পদ থেকে সরানোর ব্যাপারে।
গার্গের ভাষ্যমতে, লুইস বরাবরই সিইও হতে চেয়েছিলেন এবং এক্ষেত্রে বোর্ড ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
নিজের পদ ফিরে পেতে আইনি পথেও হাঁটছেন গার্গ। এ জন্য প্রভাবশালী আইনজীবী অ্যালেক্স সাপিরোকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি এবং বোর্ডের কাছে পাঠানো চিঠিতে পুনরায় সিইও পদে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গার্গ বলেন, গত ১০ বছর ধরে তিনি কোম্পানিটি পরিচালনা করেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়নে ঘাটতি থাকলেও ‘বেটার হোম’- এর ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এখনও আশাবাদী।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে এক জুম কলে বেটারের প্রায় ৯০০ কর্মীকে একসাথে চাকরিচ্যুত করেন গার্গ, যা কোম্পানির তখনকার মোট কর্মীর প্রায় ৯ শতাংশ। সেই জুম কলের ধরন নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে বাজারের দক্ষতা, কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার কথা বলেছিলেন গার্গ। চাকরিচ্যুতদের মধ্যে ছিল কোম্পানির পুরো বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক দলও।
সেই বহুল আলোচিত ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর এবার নিজেই চাকরিচ্যুত হলেন গার্গ।



