...|...|...

সারাদেশ

একই পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পাশে জেলা প্রশাসক

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, বিকেল ৪:৪৭ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:০০
Shares
একই পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পাশে জেলা প্রশাসক

একই পরিবারের ১১ জন সদস্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। জন্মগত বংশগত কারণে বছরের পর বছর অন্ধকারই ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার নম্বর কামারচাক ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের এই হতদরিদ্র পরিবারটির জীবনে এবার আলো জ্বালেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল।

সোশাল মিডিয়ায় খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তিনি পরিবারটির সম্পূর্ণ চিকিৎসা পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

ইসলামপুর গ্রামের এই পরিবারে ১১ জনই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। দারিদ্র্যের কারণে এতদিন উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। আলো-আঁধারির মাঝে ধুঁকছিল পরিবারটি। স্বপ্ন দেখতোযদি একদিন চোখে আলো ফেরে।

খবর নজরে আসার পর জেলা প্রশাসক জনাব তৌহিদুজ্জামান পাভেল সরাসরি ইসলামপুর গ্রামে পরিবারটির বাড়িতে যান। পরিবারের সদস্যদের সাথে দীর্ঘ আলাপ শেষে তাদের মৌলভীবাজার বি.এন.এস.বি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

সময় তিনি বলেনএই পরিবারের জন সদস্যের উন্নত চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো, প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার এবং পুনর্বাসনসব কিছুর দায়িত্ব জেলা প্রশাসন নেবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করা। এই পরিবারটি যেন চিকিৎসার অভাবে অন্ধকারে না থাকে, সেটিই আমাদের অঙ্গীকার।

ডিসির এই মানবিক সিদ্ধান্তে খুশি পরিবারটি পুরো এলাকা।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমরা ভেবেছিলাম এই পরিবারটির কথা হয়তো কেউই কখনো জানবে না। জেলা প্রশাসক স্যার নিজে উদ্যোগ নেওয়ায় আজ আমরা সত্যিই আনন্দিত। উনার উসিলায় হয়তো পরিবারের ছোট বাচ্চাগুলো আবার চোখের আলো ফিরে পাবে।

তারা আশা করছেন, জেলা প্রশাসনের সহায়তায় খুব শিগগিরই ইসলামপুরের এই ১টি জীবনে অন্ধকার কেটে আলো ফিরবে।

জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চিকিৎসার জন্য বি.এন.এস.বি চক্ষু হাসপাতালের সাথে সমন্বয় শুরু করেছে। প্রয়োজনে তাদেরকে সিলেট এম জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে রেফার করা হবে। সমস্ত ব্যয় বহন করবে জেলা প্রশাসন।

একজন মানুষের উদ্যোগ একটি পরিবারের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। ডিসি তৌহিদুজ্জামান পাভেলের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ প্রমাণ করে, রাষ্ট্র তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকের পাশেও দাঁড়ায়।